করোনাভাইরাসের আক্রমণে বিপর্যস্ত দেশগুলোর তালিকায় অন্যতম স্পেন। সে বিপর্যয় ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে দেশটি। দীর্ঘ তিন মাস পর সরকারের দ্বিতীয় ধাপে ঘোষণার পর দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে।
দোকানপাট খোলার পর এবার আজ (৮ জুন) থেকে মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য সরকার অনুমতি দিয়েছে। শর্তসাপেক্ষে মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারবেন। এ দফায় একসঙ্গে ১৫০ মুসল্লি নামাজ পড়ার সুযোগ পাবেন।
মসজিদে অবশ্যই একজন অন্যজন থেকে এক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ পড়তে হবে। মসজিদগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে অবশ্যই স্যানিটাইজিং করে নিজস্ব জায়নামাজ ও মাস্ক ব্যবহার করে প্রবেশ করতে হবে।
গত ২৫ মে থেকে স্পেনে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে রাস্তায় এখন অনেক মানুষের চলাচল দেখা যায়। পাবলিক বাসগুলোও আগের তুলনায় অহরহ পাওয়া যাচ্ছে। করোনা-সংকট উত্তরণে স্পেন সরকার কর্তৃক চার ধাপের দ্বিতীয় ধাপে চলে আসায় এসব প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেয়া হয়। তবে এখনও নিয়ম মেনেই সবকিছু পরিচালনা করতে হচ্ছে সবাইকে।
দেশটির মুসলমানরা মসজিদের দরজা খুলে দেয়ার প্রত্যাশায় ছিলেন। অবশেষে সীমিত পরিসরে হলেও এ দেশের মুসলমানদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে মসজিদগুলো।
স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার (৮ জুন) থেকে দেশটির ৭০ ভাগ অঞ্চল চলে আসবে দ্বিতীয় ধাপে। আর সে কারণেই দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠী সীমিত পরিসরে অনুমতি পেয়েছেন মসজিদে গিয়ে সালাত আদায়ের।
দেশটির বেশির ভাগ মসজিদ মরক্কো, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিদের দ্বারা পরিচালিত। স্পেনে ইতঃপূর্বে নামাজ চালু হওয়া এ রকম বেশ কিছু মসজিদে খবর নিয়ে জানা যায়, এখনকার বেশির ভাগ মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়, কোনো কোনো মসজিদে তিন থেকে চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়।
মূলত স্বল্প পরিসরে মানুষ ভেতরে প্রবেশ করানোর জন্য এ রকম ছোট ছোট করে জামাত আয়োজন করা হয়। একেকটা জামাতে মসজিদভেদে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করতে পেরেছেন।
বাকিদের বাইরে দাঁড়িয়ে পরবর্তী জামাতের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। মসজিদের ভেতরের চিত্রও ছিল সাধারণ দিনের চেয়ে একদম আলাদা, দুজন মুসল্লির মাঝখানে এক থেকে দুই মিটার দূরত্ব এবং সবাইকে মাস্ক পরে নামাজ পড়তে দেখা যায়।

