আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের গড় দামে তেজিভাব বজায় থাকলেও মূল্যবান ধাতুটির বৈশ্বিক চাহিদায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এ সময় স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। তবে চলতি বছর শেষে বিশ্বব্যাপী মূলবান ধাতুটির চাহিদা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ২০১৮ সাল শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের গড় দামেও তেজিভাবের দেখা মিলবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেটালস ফোকাস লিমিটেডের প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বাড়তি দামের কারণে বছরজুড়ে এ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্বর্ণালঙ্কারের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়তে পারে। মূলত এ সম্ভাবনা থেকেই স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদায় তেজিভাবের প্রাক্কলন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটালস ফোকাসের ‘গোল্ড ফোকাস ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮ সাল শেষে বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের সম্মিলিত চাহিদা দাঁড়াতে পারে ৩ হাজার ৯৬৯ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। তবে আগের বছরের তুলনায় বাড়লেও ২০১৮ সালে স্বর্ণের এ বৈশ্বিক চাহিদা গত পাঁচ বছরে মূল্যবান ধাতুটির গড় বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় ১০ শতাংশ কম বলেও প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালেও বিশ্বব্যাপী স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদায় প্রবৃদ্ধির দেখা মিলবে। এ সময় স্বর্ণালঙ্কারের বৈশ্বিক চাহিদা দাঁড়াবে ২ হাজার ১৮৬ টনে। ২০১৭ সালে স্বর্ণালঙ্কারের বৈশ্বিক চাহিদা ছিল ২ হাজার ১৩৫ দশমিক ৫ টন। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিশ্বব্যাপী স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা বাড়ছে প্রায় ৫০ দশমিক ৫ টন। চলতি বছর ভারতের বাজারে স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ৫৭৩ দশমিক ৩ টনে দাঁড়াতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে মেটালস ফোকাস। অন্যদিকে চীনের বাজারে এ সময় স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা দাঁড়াবে ৬৪৯ দশমিক ৯ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি।
এ সময় বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোয় স্বর্ণের সম্মিলিত চাহিদা দাঁড়াবে ৩৫০ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কম। গত বছরও এ খাতের স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছিল ৩৭১ টনে। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোয় স্বর্ণের চাহিদা কমছে ২১ টন। ২০১৮ সালে তুরস্ক ও রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্বর্ণের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে। একই সময় স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডস (ইটিএফ) বাবদ মূল্যবান ধাতুটির বৈশ্বিক চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৫০ টনে, যা ২০১৫ সালের পর সর্বনিম্ন। গত বছর এ খাতে স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা ছিল ২০২ দশমিক ৮ টন।
চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে মেটালস ফোকাসের পরিচালক নিকোস কাভালিস বলেন, ২০১৮ সালে স্বর্ণ খাতে বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বাড়তে পারে। এ বিনিয়োগের সিংহভাগই হবে চীনে। মূলত বাড়তি দামের জের ধরে লাভের আশায় বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহী হবেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদাও আগের বছরের তুলনায় বাড়বে।
তিনি জানান, ২০১৭ সালের মতো এবারও বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) স্বর্ণের বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে। এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের গড় দাম ১ হাজার ৪৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বছর শেষে পণ্যটির গড় দাম দাঁড়াবে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩৪৫ ডলারের আশপাশে, যা চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের গড় দামের তুলনায় ১৫ ডলার বেশি। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রির্জাভের সুদহার ও বিশ্ব অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা, উত্তর কোরিয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, ডলারের দুর্বল অবস্থানসহ নানা কারণে ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে তেজিভাব দেখা দিতে পারে। ফলে এ বছর বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ উৎস হিসেবে স্বর্ণের প্রতি ঝুঁকবেন বলে মনে করছেন নিকোস কাভালিস।
