জঙ্গি বা হামলাকারীদের যে কোনও ধর্ম হয় না। তা আরেকবার প্রত্যক্ষ করল হিংসা কবলিত উত্তর–পূর্ব দিল্লি।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা শিব বিহারের নঈম আলি প্রধান বা সেলিম কাসারই হোক বা চাঁদবাগের তারান্নুম বা নেম সিং। নিজেদের ধর্মের উন্মত্ত জনতার হাত থেকে যারা রক্ষা করেছিলেন ভিন্ন ধর্মের আতঙ্কিত মানুষদের প্রাণ।
৩৪ বছরের নঈম জানালেন, গত ২৪ তারিখ তাদের এলাকা যখন সাম্প্রদায়িক হিংসায় জ্বলছিল, তখন তার কাছে কমপক্ষে আটজন ভীত হিন্দু যুবক পথনির্দেশ জানতে চান। তাদের তাড়া করছিল হামলাকারীরা। ওই যুবকরা দিকভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছেন বুঝতে পেরে তিনি এবং তার বন্ধুরা মিলে তাদের নিরাপদে হিন্দু কলোনিতে যেতে সাহায্য করেন
।
৪৮ বছরের সেলিম কাসার গত ২৫ তারিখ সকালে তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আজও কেঁপে উঠছেন। সেদিন সকালে তার চোখের সামনেই তাদের গাড়ি এবং ৫২ বছরের প্রৌঢ় তার বড়দাকে পুড়িয়ে মেরেছিল হামলাকারীরা। সেলিম এবং তার পরিবারকে নিজেদের বাড়িতে লুকিয়ে রেখে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে রক্ষা করেছিল তাদেরই এক হিন্দু প্রতিবেশী পরিবার।
পরদিন তাকে, তার স্ত্রী, মেয়ে, অন্ধ জামাই এবং মেয়ের দুই সন্তানকে হিন্দুদের মতো পোশাক পরিয়ে, ছেলেদের কপালে তিলক কেটে, মেয়েদের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে ওই হিন্দু পরিবারই মুস্তাফাবাদে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে বলে জানালেন কাসার। তিনি আরও বললেন, হামলাকারীদের মুখ–মাথা কাপড় ও হেলমেটে ঢাকা ছিল।
চাঁদবাগের তারান্নুম জানালেন, গত ২৫ তারিখ রাতে তাদের বিপরীত বাড়ির প্রতিবেশী, পেশায় অটো রিকশাচালক নেম সিং–এর জন্যই তার পরিবারের ১৫ জনের প্রাণ বেঁচেছে। নেম সিং–কে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা এখনও খুঁজে পাননি তারান্নুম। বললেন, রাতে যখন সদর দরজায় ধাক্কার শব্দ শুনেছিলেন, তখন তারা সবাই ভেবেছিলেন হামলা হতে চলেছে। কিন্তু নেম সিং তাদের নিজের ঘরে লুকিয়ে রেখে তাদের রক্ষা করেন। অন্যদিকে, নেম সিং বললেন, নিজের প্রাণের চিন্তা থাকলেও এতদিন যে প্রতিবেশী শিশুদের বাড়ির সামনে খেলা করতে দেখেছেন, তাদের আর্তনাদই তাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল তারান্নুমের দরজায়।
অনুবাদ: আজকাল
ছবি: এএনআই

