হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশের বাজারে পেঁয়াজ আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৪ হাজার টনের বেশি কমেছে। এ সময় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি কমার কারণ হিসেবে ভারতের বাজারে পণ্যটির বাড়তি রফতানি মূল্যকে (এমইপি) চিহ্নিত করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। এখন ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পেঁয়াজের এমইপি তুলে নেয়ার ঘোষণায় পণ্যটির আমদানি বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সব মিলে ৬২২টি ট্রাকে ১২ হাজার ৮৭৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বন্দরটি দিয়ে ভারত থেকে ৪২৩টি ট্রাকে ৮ হাজার ৩৩৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। সে হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যটির আমদানি কমেছে ৪ হাজার ৫৩৪ টন। এদিকে চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে এ স্থলবন্দর দিয়ে ২৯১টি ট্রাকে মোট ৬ হাজার ৫৪ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানিতে কিছুটা মন্দাভাব বজায় ছিল। আগে এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৪০-৫০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো। গত জানুয়ারিতে পণ্যটির আমদানি দৈনিক ১৫-২০ ট্রাকে নেমে আসে। গত বর্ষায় ভারতের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পণ্যটির উৎপাদন ব্যাহত হয়। ফলে দেশটির বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দেয় এবং পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে পণ্যটির মূল্য বৃদ্ধির লাগাম টানতে গত ২৩ নভেম্বর পেঁয়াজের এমইপি টনপ্রতি ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। মূলত দাম বাড়িয়ে রফতানি নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়ানোই ছিল পেঁয়াজের এমইপি নির্ধারণের মূল লক্ষ্য। এ সময় বাড়তি এমইপির কারণে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বাড়তি দামের কারণে দেশের বাজারেও পণ্যটির চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। এসব কারণে পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহ হারান স্থানীয় আমদানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. হারুন উর রশীদ হারুন বণিক বার্তাকে বলেন, বাড়তি এমইপির কারণে গত বছরের শেষভাগ ও চলতি বছরের শুরুতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি ব্যাপক হারে কমে যায়। ২০১৭ সালের শেষের দিকে ভারতের বাজারে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ উঠতে শুরু করে। জানুয়ারির শেষ নাগাদ দেশটির বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। এ কারণে পেঁয়াজের এমইপি তুলে নেয় ভারত সরকার। বণিক বার্তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চলতি বছর জানুয়ারি মাসের বেশির ভাগ সময় পেঁয়াজের বাড়তি এমইপি কার্যকর ছিল। এ সময় ভারত থেকে পণ্যটি আমদানিতে টনপ্রতি ২ ডলার পরিবহন ব্যয়সহ মোট ৮৫২ ডলার খরচ হতো। এ কারণে স্থানীয় আমদানিকারকরা লোকসানের সম্ভাবনা থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে গত জানুয়ারিতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টন কমেছে।
