Acquired Immune Deficiency Syndrom এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল AIDS (এইডস)। Human Immunodeficiency Virus এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল HIV (এইচআইভি)। এইচআইভির কারনে এইডস হয়। কোন রোগ বা সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য শরীরের স্বাভাবিক ক্ষমতাকে এইচআইভি ক্রমান্বয়ে ধ্বংস করে দেয়। তাই, এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি অতি সহজেই যেকোন রোগে (যেমন: নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ডায়রিয়া) আক্রান্ত হয়ে পড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞান এইডস এর কোন প্রতিষেধক বা কার্যকর ওষুধ এখনও আবিষ্কার করতে পারেনি।
অন্যান্য দেশের তুলনায় আফ্রিকায় এই রোগের প্রকোপ অনেক বেশি। মহাদেশটির বেশিরভাগ দেশের মতই গাম্বিয়ার চিত্রও ভিন্ন নয়। তবে ২০০০ সাল পর্যন্ত দেশটিতে কেউই প্রকাশ্যে এইডসের কথা জানাননি।
তবে সম্প্রতি সামনে এসেছে একটি অন্যরকম খবর। গত একবছর আগে ক্ষমতাচ্যুত গাম্বিয়া’র প্রাক্তন নেতা ইয়াহিয়া জামেহ নিজের আবিষ্কৃত ঔষধের মাধ্যমে এইডসের চিকিৎসা করতেন। তার এই উদ্ভট চিকিৎসায় প্রাণ হারিয়েছে দেশটির অসংখ্য মানুষ।
২০০০ সালে ল্যামিন চ্যাসি নামে এক এইডস রোগী প্রথম নিজের রোগ সম্পর্কে প্রকাশ্যে জানান। এর আগে কেউই এই রোগের ব্যাপারে মুখ খোলেননি। এর পর তিনি এইডস বিষয়ক সচেতনতার জন্য ক্যাম্পেইন করা শুরু করেন। এর কয়েকবছর পরই ইয়াহিয়ার জামেহর মনোযোগ ম্ন চ্যাসি।
২০০৭ সালে জামেহ ঘোষণা দেন তিনি গাছ গাছড়ার মাধ্যমে এইডসের প্রতিষধক আবিষ্কার করেছেন। জামেহর এই ঔষধ শুধু বৃহস্পতিবার ও সোমবার কাজ করে। এই ওষুধের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে জামেহ প্রথমে একদল শুকর এবং পরে একসময় মানুষের উপরই পরীক্ষা চালানো শুরু করেন। এজন্য তিনি সাহায্য নেন ল্যামিন চ্যাসির।
চ্যাসির ভাষ্যমতে, আমি নিজে তার চিকিৎসা নেয়ার সাহস পাইনি। তবে আমি অন্যদের তার চিকিৎসার ব্যাপারে বলতাম। আমি তার ক্যাম্পেইনে অন্যদের পাঠাতাম । আমার মনে হত ওখানে গেলে আমি সমস্যায় পড়তে পাড়ি।
তবে পরবর্তীতে চ্যাসি সেখানে যেতে বাধ্য হন। জামেহর ক্লিনিকে অন্য ওষুধ নেয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে এইডস রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করতেন। উপরন্তু জামেহর ওষুধ খাওয়ার পর ডায়রিয়ার সৃষ্টি হত। যে কারণে মৃত্যুর হার আরও বেড়ে যায়। চ্যাসির স্ত্রীও চিকিৎসা চলাকালে মৃত্যুবরণ করেন।
গাম্বিয়া বাসীকে এই অত্যাচার সহজ করতে হয়েছে আরও ১০ বছর। ২০১৭ সালে জামেহর পতনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে এই উদ্ভট চিকিৎসার।
সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান জামেহ ২২ বছর ধরে যথেচ্ছা শাসন চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে গাম্বিয়াবাসীর। তাদের দাবি, বাদশাহি কায়দায় হুকুম জারির মাধ্যমে দেশ চালানো তার অভ্যাস। এর আগে চারবার নির্বাচনে জেতেন জামেহ। ১৯৯৪ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন তিনি। এরপর চারবার নির্বাচনে জয়ী হলেও প্রতিবারই তার বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়।
