১৭৩৭ সালের ১১ অক্টোবর। সাগর থেকে কলকাতার দিকে বয়ে এসেছিল এক ঘূর্ণিঝড়। সেই ঝড়ের সঙ্গে বহু মিল রয়েছে আম্পানের গতিপথের। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র থেকে এমন তথ্য জানা যায়।
আম্পানের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড কলকাতা। ২৮৩ বছরের পুরনো সে ঝড়ের স্মৃতিই যেন মনে করিয়ে দিলো সদ্য শেষ হওয়া ঘূর্ণিঝড়টি।
জানা যায়, কলকাতার মূলত উত্তর ভাগ লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। প্রায় ৪০ ফুট জলোচ্ছ্বাসের ফলে দাঁড়িয়ে থাকা প্রচুর জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২৮৩ বছর আগে রাডার কিংবা কৃত্রিম উপগ্রহের নজরদারি ছিল না, এমনকি আবহাওয়া অফিসও ছিল না। তাই সেই ঝড়ের নিখুঁত গতিপথ পাওয়ার উপায় নেই। তবে ১৯৯৬ সালে আবহাওয়া দফতরের ‘মৌসম’ পত্রিকায় আবহাওয়া বিজ্ঞানী এ কে সেনশর্মা ১৭৩৭ সালের ঝড় নিয়ে একটি গবেষণাপত্র লিখেছিলেন।
ইতিহাসবিদ রঞ্জন চক্রবর্তীর গবেষণায়ও ১৭৩৭ সালের ওই ঘূর্ণিঝড়ের বিশদ বিবরণ ও বিশ্লেষণ রয়েছে। ‘জেন্টলম্যানস’ পত্রিকাকেও সে সময় এই বিপর্যয়ের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। ভূতত্ত্ববিদ রজার বিলহ্যামের গবেষণাতেও সেই রিপোর্টের উল্লেখ রয়েছে।
২৮৩ বছর আগের সেই ঝড়টির যে গতিপথ ধারণা করেছিলেন তাতে দেখা যাচ্ছে, সাগরদ্বীপের তলা থেকে উঠে কলকাতার উপর দিয়ে মধ্যবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের দিকে চলে গিয়েছিল ঝড়টি। এ দিন আম্ফানের গতিপথও অনেকটা একই রকম।
১৭৩৭ সালের ওই বিপর্যয় কি নেহাতই ঘূর্ণিঝড় নাকি ভূমিকম্প ও তার ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস তা নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ আবার দু’টি কারণের কথাও বলেন।
সুত্র : আনন্দবাজার

