গেল সপ্তাহে প্রবল বেগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়ে সুপার সাইক্লোন আম্পান। এই ঝড় রুখতে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিলো সুন্দরবন। একা লড়াই চালিয়ে গেছে আম্পানের সাথে। আর এ লড়াইয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবনের। এমন তথ্য জানিয়েছে রাজ্যের সরকার।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণা আর উত্তর ২৪ পরগণা, এই দুই জেলার সুন্দরবনের ‘সর্বনাশ’ হয়ে গেছে বলে গতকাল বুধবার (২৭ মে) মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উল্লেখ করেন।
একদিকে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে হাজার হাজার গাছ ধ্বংস হয়েছে, তেমনই ভেঙে গেছে বহু নদী বাঁধ, বনপ্রহরীদের শিবির বা অরণ্যের ভেতরে থাকা বন বিভাগের ছোট ছোট দপ্তর।
সুন্দরবনের কোর এরিয়ায় এখনো পৌঁছনো সম্ভব না হলেও ড্রোনের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চারণভূমি এবং পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ আর ম্যানগ্রোভ অরণ্যের।
পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি বলেন একদিকে যেমন বনদপ্তরের পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে, তেমনই ধ্বংস হয়েছে অরণ্যও। কোর এরিয়ার চারদিকে ১৩২ কিলোমিটারজুড়ে যে নাইলনের জাল দেওয়া ছিল, যাতে বনের বাঘ লোকালয়ে চলে না আসতে পারে, তা ঘূর্ণিঝড়ে সম্পূর্ণ উড়ে গেছে।
কোর এরিয়ায় ক্যামেরা লাগানো ড্রোনের সাহায্যে বোঝা গেছে যে ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছের সংখ্যা বিপুল।
সুন্দরবনের ভেতর বহু এলাকায় নদীবাঁধ ভেঙে গিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় এখন লবণাক্ত পানি দাঁড়িয়ে রয়েছে। সুন্দরবন লাগোয়া শত শত গ্রামে যেমন বসতবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, তেমনি লবণাক্ত পানি দাঁড়িয়ে থাকায় বোরো ধান কীভাবে চাষ করা হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সুন্দরবনের পরিবেশের ওপর নজর রাখেন, এমন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকদিন ধরেই বিশ্ব হেরিটেজের খ্যাতি পাওয়া সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে, নির্বিচারে জঙ্গল কেটে বসতি বানানো হচ্ছে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

