ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের 'এন্ট্রেপ্রিনিয়রশিপ সামিট-২০১৮'



ইষ্ট ওয়েষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইডাব্লিইউ) তরুণ ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করা এবং কর্পোরেট কালচার সম্পর্কে ধারণা দিতে ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটি টেলিকমিউনিকেশন্স ক্লাবের উদ্যোগে গত ২-৩ জুলাই দুই দিনব্যাপী উদ্যোক্তা বিষয়ক কর্মশালা এবং প্রতিযোগিতা ‘এন্ট্রেপ্রিনিয়রশিপ সামিট-২০১৮’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এস.এম. নওশের আলী লেকচার গ্যালারী তে শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এন্ট্রেপ্রিনিয়রশিপ সামিট-২০১৮ তে টেকনোলজি অথবা নন-টেকনোলজি বিষয়ক আইডিয়াকে সফল ব্যাবসায় রূপান্তরিত করার এ প্রতিযোগিতায় ইষ্ট ওয়েষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, আইইউটি, বুটেক্স, আর্মি ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ, এনএসইউ, এআইইউবি, আইইউবি, এশিয়া প্যাসিফিক, ড্যাফোডিল সহ দেশের ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টা টিম নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে।
দুইদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রথম দিনের শুরুতে ইয়ং বাংলায় তরুণদের নিয়ে কাজ করা আশিকুর রহমান রূপক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা কীভাবে একটি আইডিয়াকে সফল স্টার্টআপ তথা সফল ব্যবসায় রূপান্তর করতে পারে এবং একাজে যে সকল প্রতিবন্ধতার মুখোমুখি হতে হয়, তা বিশদভাবে প্রতিযোগিদের সাথে আলোচনা করেন। এরপরে প্রতিযোগিদের আড়াই ঘন্টা সময় দেয়া হয় দুপুরের খাবার এবং তাদের আইডিয়া নিয়ে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেয়ার জন্যে। এরপর ক্লাবের মডারেটর এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডক্টর অনুপ কুমার পাল, প্রভাষক রাসেল অহম্মেদ এবং গেস্ট জাজ আশিকুর রহমান রূপক এর সামনে প্রতিযোগিরা তাদের আইডিয়া উপস্থাপন করেন। উপস্থাপিত আইডিয়ার মধ্যে সেরা ৯ টিমকে তাদের আইডিয়া নিয়ে ফাইনাল প্রেজেন্টেশনের জন্যে মনোনীত করা হয়।
প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিন নরওয়ে থেকে আসা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দিদরিক স্ট্রোহ্ম, চীফ অপারেশন অফিসার, ওয়াইএসআই গ্লোবাল এবং বিশেষ অতিথি সুমন সাহা, কান্ট্রি ডিরেক্টর ওয়াইএসআই বাংলাদেশ, ফাউন্ডার এবং প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সাইন্স সোসাইটি এর সামনে প্রোতিযোগীরা তাদের আইডিয়ার চূড়ান্ত প্রস্তাব বিশ্লেষণ করেন। এরপর ‘ইনোভেশন এন্ড এন্ট্রেপ্রিনিয়রশিপ’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথি উদ্যোক্তা হিসেবে কোন কোন বিষয়ের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং কি কি প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে সেসব বিষয়ে আলোচনা করেন।
কর্মশালা শেষে প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন টিম ‘টিম পান্ডা এন্ড ট্রুপ্স’(ইডাব্লিউইউ), ফার্স্ট রানার্সআপ ‘ডিও ব্লাঙ্কস’(ইডাব্লিউইউ) এবং সেকেন্ড রানার্সআপ ‘টিম সান্তা বান্তা’(বুয়েট) এর নাম ঘোষণা করা হয় এবং তাদের পুরস্কৃত করা হয়। বাকি টিম মেম্বার্সদের “এপ্রেচিয়েশন অফ পার্টিসিপ্যান্ট” সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। পুরস্কার শেষে ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্ঝর সাহা বলেন, ইডাব্লিউইউটিসি ক্লাবের উদ্দ্যোগে এ প্রতিযোগিতার সেরা ৫ টিমকে তাদের আইডিয়া জেনারেট করার জন্যে ফান্ড রাইজিং এর সহয়তা করা হবে। সেরা ৫টা টিমের মধ্যে আছেন থার্ড রানার্সআপ ‘টিম থার্টি নাইন’(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ফোর্থ রানার্সআপ ‘টিম ডাস্ট থিয়েটার’(নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়) ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ক্লাবের মডারেটর, প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে ক্রেষ্ট তুলে দেন।
উল্লেখ্য , শিক্ষার্থীদের মাঝে টেলিকমিউনিকেশন বিষয়ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক আইডিয়া ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ‘লিমিটেড সিগন্যাল, আনলিমিটেড আইডিয়াস’ মূলনীতি নিয়ে ২০০৬ সালে মে মাসের ৫ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করে ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটি টেলিকমিউনিকেশনস ক্লাব।