বিশ্বের জন্য হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা। মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফায়ারআই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
ফায়ারআইয়ের তথ্যমতে, রিপার নামের হ্যাকার গ্রুপটি এপিটি৩টি নামে পরিচিত। গত বছরজুড়ে এ হ্যাকারগোষ্ঠী জাপান, ভিয়েতনাম ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় সাইবার হামলা চালিয়েছে। এর আগে গ্রুপটি বেশ কয়েক বছর ধরে প্রতিবেশী দেশগুলোয় সাইবার হামলার মাধ্যমে তথ্য চুরি করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের মহাকাশ, টেলিযোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে উত্তর কোরিয়া বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার সরকার রিপার হ্যাকার গ্রুপটিকে মদদ দিয়ে আসছে। এর আগে রিপার দেশটির আরেক হ্যাকার গ্রুপ লাজারুসের ছায়া গ্রুপ হিসেবে কাজ করেছে। ২০১৪ সালের সনি পিকচারস ও ২০১৭ সালের ওয়ানাক্রাই র্যানসমওয়্যারের জন্য লাজারুস গ্রুপকে দায়ী করা হয়।
ফায়ারআইয়ের তথ্যমতে, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন দায়িত্ব নেয়ার পরই রিপারের যাত্রা হয়। ২০১২ সাল থেকেই এ হ্যাকার গ্রুপ দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে আসছে।
বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার ওপর বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাই দেশটির বিভিন্ন হ্যাকার গ্রুপ সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে তথ্য ও অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। লাজারুস ও এর সমমনা হ্যাকার গ্রুপগুলো অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার চুংনাম ন্যাশনাল ইউভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শিন জিন বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় সাইবার হামলা চালানো নিয়ে উত্তর কোরিয়াকে আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। দেশটির হ্যাকাররা এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এ ধরনের হামলা চালাতে চায়। কারণ অনেক দেশের নিরাপত্তা কাঠামো দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে দুর্বল।
গত মাসে আডবি ফ্লাশে নিরাপত্তা বিচ্যুতির তথ্য প্রকাশ করে দক্ষিণ কোরিয়া।
