স্মার্টফোন নির্মাতা এইচটিসি করপোরেশনের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে গত জুনে এর ডিভাইস বিক্রি কমেছে ৬৮ শতাংশ। গত দুই বছরে ডিভাইস বিক্রিতে এমন সংকটে পড়েনি প্রতিষ্ঠানটি।
বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের এক সময়ের উজ্জ্বল স্টার্টআপ এইচটিসি। ডিভাইস বাজারে প্রবেশের পর ভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে প্রতিষ্ঠানটি। এর বিক্রয় ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য। বিনিয়োগকারীরাও এইচটিসি নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। তবে অ্যাপল, স্যামসাং, শাওমি ও হুয়াওয়ের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ডিভাইস ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে।
বিবৃতিতে এইচটিসি জানায়, জুনে তাদের বিক্রি দাঁড়িয়েছে ২২০ কোটি তাইওয়ান ডলার, যা এক বছর আগের একই সময় ৬৯০ কোটি তাইওয়ান ডলার ছিল। এছাড়া গত মে মাসে বিক্রির অংক ছিল ২৪৫ কোটি তাইওয়ান ডলার।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের তথ্যমতে, হাই-এন্ড ফ্ল্যাগশিপ হ্যান্ডসেট বাজারে নাজুক অবস্থায় রয়েছে এইচটিসি। চলতি বছর বিক্রয় লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হবে প্রতিষ্ঠানটি। এইচটিসির মাঝারি ও লো-এন্ড ডিভাইসগুলোয় সৃজনশীল উদ্ভাবনের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে গ্রাহক সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারছে না, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। যার কারণে এইচটিসির ডিভাইস বিক্রি ক্রমান্বয়ে কমছে।
ট্রেন্ডফোর্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক হ্যান্ডসেট বাজারে চলতি বছর নতুন মডেলের স্মার্টফোন উন্মোচন কমাবে এইচটিসি। চলতি বছরজুড়ে এর ডিভাইস উৎপাদন ২০ লাখ ইউনিটের চেয়ে কম হবে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে দেড় হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে এইচটিসি। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক কর্মী বাহিনীর ২৫ শতাংশ চাকরি হারাবেন। মুনাফার ধারায় ফিরতে এ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৈশ্বিক হ্যান্ডসেট বাজারে দখল বাড়িয়ে চলতি বছরের মধ্যেই লাভজনক প্রতিষ্ঠান হতে চায় এইচটিসি। এ কারণে ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী এর মোট কর্মী ছিল ১৫ হাজার। গত জুন শেষে তা কমে ৬ হাজার ৪৫০ জনে দাঁড়িয়েছে।
বিবৃতিতে এইচটিসি জানায়, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এইচটিসিকে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে। এছাড়া স্মার্টফোন ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) ব্যবসাকে সব অঞ্চলে একক নেতৃত্বে আনতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
