এক মিনিটে ৩ জনের মৃত্যু



ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার বেগে আসা ১ মিনিটের কালবৈশাখীর আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে রাজধানী। এই এক মিনিটের ঝড়েই ঝরে গেছে ৩ প্রান। তবে এর প্রভাবে ঘণ্টাখানেক ধরে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে।

আজ রোববার সন্ধ্যায় ৬টা ২২ মিনিটে শুরু হওয়া কালবৈশাখীর স্থায়িত্ব ছিল এক মিনিটের বেশি। রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া একটি বজ্রমেঘ দেশের মধ্য, পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

এতে দেশের অর্ধেকের বেশি এলাকায় ওই কালবৈশাখী আঘাত হানে। এর সঙ্গে বজ্রপাত ও বৃষ্টিও হয়। সারা দেশের মধ্যে ঝড়বৃষ্টির দাপট রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি ছিল। আগামীকাল সোমবার ও আগামী মঙ্গলবারও এই ঝড়বৃষ্টি থাকতে পারে।

রাজধানীর পল্টনে ভবন থেকে খসে পড়া ইটের আঘাতে মারা গেছেন চা-দোকানি মো. হানিফ (৪৫)। মণিপুরিপাড়া এলাকায় মিলি ডি কস্তা নামের একজন মারা গেছেন। তিনি উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়েন। ভবনের ইট ধসে শেওড়াপাড়ায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। এ ছাড়া মৌলভীবাজারে দুই বোন ও হবিগঞ্জে একজন মারা গেছেন।

ঝড়ে অনেক স্থানে গাছপালা ভেঙে গেছে, বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে শিলাবৃষ্টিও পড়েছে। প্রচণ্ড বাতাসে রাজধানীসহ দেশের অনেক স্থানে বহুতল ভবন কেঁপে কেঁপে ওঠে।

এছাড়া গাছ পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ধসে পড়ায় রাজধানীসহ দেশের অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে রাতেই অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ-সংযোগ সচল করা হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ-সংযোগ চালু করার চেষ্টা চলছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীর মোট ২৫টি স্থানে গাছ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। শাহবাগসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সড়কের পাশের বিলবোর্ড উড়ে গেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

রাজধানীর বেশ কিছু স্থানে গাড়ির ওপর গাছ উপড়ে পড়ে। সড়কে গাছ পড়ে অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় গাছ সরানোর পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।