করোনাভাইরাসের বর্তমান কিছুদিন আগেই বাতিল করা হয়েছে এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পর্রত্মা। এবার বাতিল করা হলো অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষাও।
গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ২৩ আগস্ট জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিলের প্রস্তাবনাসংক্রান্ত সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। সেই সারসংক্ষেপে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরই গতকাল জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সভায় করোনা পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক না হয় সে ক্ষেত্রে এইচএসসি পরীক্ষা কিভাবে নেওয়া যায়, সেই উপায় খুঁজতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণের বিষয়ে বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি কী হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়; যা আগামী সভায় উপস্থাপন করতে বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
যদি জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা না হয় তাহলে কিভাবে মূল্যায়ন হতে পারে, সে ব্যাপারে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বিইডিইউ)। তারা বলছে, করোনাভাইরাসের ছুটির কারণে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৮৮টি কর্মদিবস নষ্ট হচ্ছে।
১৬ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মাত্র ৪১ দিন কর্মদিবস পেয়েছিল, কিন্তু এই সময়ে তেমন একটা লেখাপড়া হয়নি। যদি ১ অক্টোবর থেকে ৫২ দিন কর্মদিবস থাকে, এই সময়েও ক্লাস শুরু করা সম্ভব হলে শীতকালীন ১০ দিনের ছুটি বাতিল করা বা কমানোর সুপারিশও আছে।
বিইডিইউ আরো বলছে, অক্টোবর বা নভেম্বরে খুললে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। আর সেটা সম্ভব না হলে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই ‘অটো পাস’-এর মাধ্যমে পরবর্তী শ্রেণিতে চলে যাবে শিক্ষার্থীরা।

