বাবা ডাব বিক্রি করেন, মা বাসায় কাজ করে সংসার চালায়। দুই ভাইবোন। ওর নাম নাঈম।
অবশ্য আরো একটা পরিচয় তার আছে। সে একজন হিরো। রাজধানীর কড়াইল বৌ বাজারে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে নাঈম। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।
খুব স্বাভাবিক, সাধারণ একটা কাজের জন্য তার হিরো হয়ে ওঠা। একটা পরিস্থিতি কল্পনা করুন, বুঝতে পারবেন। ধরুন আপনার বাসার বেসিনের বা যে কোনো পানির পাইপ ফেটে গেছে। আপনি কি করবেন?
বনানীর অগ্নিকাণ্ডের সময় ও তাই করেছে। কিন্তু সেটা তার দেশের জন্য। কারণ ও এখনো দেশকে নিজের মনে করে। যেটা আপনি বা আমি করি না।
নিজের চেয়ে দেশের স্বার্থ ওর কাছে বড়। হয়তো নাঈমও বড় হওয়ার সাথে সাথে ভুলে যাবে মানবতা, আমাদের দেখে দেখে… সেও হয়ে উঠবে স্বার্থপর।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় নাঈম ইসলামের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। অনেকেই শিশুটিকে প্রশাংসায় ভাসিয়ে সেই ছবি শেয়ার করেন।
সামাজিক যোগযোগের মাধ্যমে ‘হিরো’ হয়ে ওঠা নাঈম শুক্রবার আবারও বনানীর সেই পোড়া ভবনের সামনে এলে অনেকেই তাকে ধন্যবাদ জানান। বুদ্ধিদীপ্ত কাজের জন্য তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন কেউ কেউ।
পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া নাঈম সাংবাদিকদের বলে, ‘আমি দুপুরবেলা এসে দেখি এখানে আগুন লেগেছে, ফায়ার সার্ভিস অনেক কষ্ট করে আগুনটা নেভাতে চাইছে।’
‘আমি দেখি পাইপটা ফাটা, সেজন্য আমি পাইপটা চাপ দিয়ে ধরে রাখলাম, যেন পানিটা ভালোমত কাজে লাগে, আগুন নিভে যায়।’
পলিথিন কোথায় পেয়েছো- সেই প্রশ্নে নাঈম জানায়, একজন এসে পলিথিন দিয়ে গেলে সেটা দিয়েই ফাটা পাইপ চাপ দিয়ে ধরে রাখে সে।
সবাই তো ঘুরছিল, তুমি ফাটা পাইপের পানি বন্ধের চেষ্টা করতে গেলে কেন?
নাঈমের উত্তর, ‘আমার মনে হচ্ছিল শতশত লোক মারা যাবে। আমি যদি পাইপটা ধরে রাখতে পারি তবে ফায়ার সার্ভিস পানিটা অগুন নেভানোর কাজে লাগিয়ে মানুষকে বাঁচাতে পারবে।’
নাঈমের কোমল মনের মানুষ নামে কেউ এখনো বেঁচে আছে। তাই তার কষ্ট হয় আরেক মানুষকে মরতে দেখলে। আর যাদের হাতে সমাধান তারা তো ঘুমিয়ে। তা না হলে বারবার এক জাতীয় ঘটনা ঘটে?
বড় হয়ে কী হতে চাও- এই প্রশ্ন করতেই নাঈম জানায়, সে পুলিশ অফিসার হতে চায়।
প্রশ্নটা এখানেই, হতে পারবে? সম্ভব!
আজ অনেক কারণে নাঈম আলোচনায়। যদিও কারণগুলো সবই স্বার্থের। কাল নাঈম আবারও পথের ছেলে। অতীত তো তাই বলে…

