‘গবেষণার ফল জানতে চাই’


Hasina_#paperslife

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গবেষণাটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু গবেষণা করলেই চলবে না, গবেষণার ফলাফল কী সেটাও জানতে চাই। দেশের জন্য গবেষণা যে কাজে লাগছে তাও নিশ্চিত হতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ এবং বিশেষ গবেষণা অনুদান প্রদান ২০২০ অনুষ্ঠানে একথা সরকার প্রধান।

এসময় তিনি গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে কীভাবে তা নিশ্চিত করতে গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের উন্নয়নে গবেষণার গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকে স্ট্রবেরি বাংলাদেশে উৎপাদন করা হচ্ছে। আজকে খাদ্যে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ, সেটাও কিন্তু গবেষণার ফসল। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পাশাপাশি এখন পুষ্টির নিশ্চয়তা নিয়ে কাজ চলছে। মাছ, সবজি উৎপাদনেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। এসবই হয়েছে গবেষণার জন্য।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, এবারের অর্থবছরে ৩ হাজার ২০০ জনকে উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও আমরা ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করেছি।

সেখান থেকেও উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার জন্য অর্থ দিয়ে থাকি। শিক্ষার জন্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। ১৯৯৬ সালে সরকারে এসে দেখলাম- কেউ বিজ্ঞান শিক্ষা নিতেই চায় না। কম্পিউটার কেউ ছুঁয়েও দেখতো না। আমরা উদ্যোগ নিলাম, ট্যাক্স তুলে দিলাম, এখন সবার হাতে হাতে ল্যাপটপ। প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়। আমাদের যতটুকু সম্পদ আছে, সেটা দিয়েই সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’

এসএসসি পর্যন্ত শিক্ষায় কোনও ভাগ থাকা উচিত নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আইয়ুব খানের সময় ক্লাস নাইন থেকেই বিজ্ঞান, মানবিক প্রভৃতি বিষয় আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসএসসি পর্যন্ত সবার এক শিক্ষা থাকা ভালো, কোনও ভাগ থাকবে না, কিছু মৌলিক বিষয়ে সবার শিক্ষা থাকা ভালো, এরপর বিশেষায়িত শিক্ষার জন্য বিভাগ আলাদা হওয়া উচিত।’

‘আজকের শিশুরা আগামী দিনে যেন সুন্দর একটা জীবন পায়, কেউ যেন বঞ্চিত না হয়, শহর-গ্রাম সবখানেই যেন উন্নয়ন হয়। উন্নয়নের সব পরিকল্পনা গ্রামকে ঘিরেই করে যাচ্ছি। পুরো দেশটা যেন সমানভাবে উন্নত হয় সেসব ভেবেই কাজ করছি’, বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।