গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার ভোরে উপজেলার খোদ্দকোমরপুর ইউনিয়নের মোজাহিদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতার মারধরে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে রক্তক্ষয়ী সংঘাত
শীতের আমেজ কাটিয়ে বসন্তের ভোরে যখন গ্রামটি আড়মোড়া ভাঙছিল, ঠিক তখনই মোজাহিদপুর এলাকায় একদল ছিনতাইকারী হানা দেয় বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ভোরে সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে গ্রামবাসীর মনে সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে ‘চোর চোর’ বা ‘ছিনতাইকারী’ বলে চিৎকার শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যেই লাঠিসোটা নিয়ে কয়েকশ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
পালানোর চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি দুই ব্যক্তির। বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে ঘটনাস্থলেই তারা নিস্তেজ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
আজ বেলা ১১টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি বলেন, “আমরা খবর পাওয়া মাত্রই ফোর্স পাঠিয়েছি। নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে এবং তারা কোনো অপরাধী চক্রের সদস্য কি না, সেটিও তদন্তাধীন।”
এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও, স্থানীয়দের মাঝে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনার মূল তথ্যসমূহ:
স্থান: মোজাহিদপুর এলাকা, খোদ্দকোমরপুর ইউনিয়ন, সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা।
সময়: শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরবেলা।
নিহতের সংখ্যা: ২ জন (পরিচয় অজ্ঞাত)।
অভিযোগ: স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী তারা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এলাকায় ঢুকেছিল।
পুলিশি পদক্ষেপ: লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ এবং ঘটনার তদন্ত শুরু।
বিচারহীনতা নাকি গণ-অসন্তোষ?
পেশাদার সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে দেখলে, এ ধরনের ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির ঘটনা সমাজে আইন-শৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থাহীনতাকেই ফুটিয়ে তোলে। গত কয়েক মাসে উত্তরাঞ্চলে ছোটখাটো চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামবাসী নিজেদের জানমাল রক্ষায় পাহারার ব্যবস্থা করেছিল। এই সংক্ষুব্ধ মানসিকতা থেকেই আজকের এই মর্মান্তিক পরিণতির সূত্রপাত বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা।
একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, যখনই অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় জাগে, তখনই তারা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। মোজাহিদপুরের ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধের চিত্র নয়, বরং এটি সামাজিক অস্থিরতার এক গভীর সংকেত।

