ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছে তবে?


paperslife

নেইমার যখন বার্সেলোনা ছেড়েছিলেন, তখন বলেছিলাম – ছেলেটা ভুল করছে। জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত হয়ত সেদিনই নিয়েছিলেন তিনি।

এমন কথার পিঠে তেড়েফুঁড়ে এসেছিলেন বেশ কিছু ব্রাজিলিয়ান সমর্থক। মূলত তারা ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদকে সমর্থন করেন। আবার দেশের বিচারে ব্রাজিল।

নিজেদের প্রিয় খেলোয়াড় রাইভাল দলের হয়ে মাঠ মাতায়, নিজের দলের বিপক্ষে গোল উৎসবে মেতে উঠে – এসব মেনে নেওয়া যায় কি?

যায় না বলেই হয়ত সেদিন নেইমারের বার্সেলোনা ছাড়ার খবর শুনে খুশি হয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান মাদ্রিদিস্তারা। এখন যে মন ভরে প্রিয় নেইমারকে সমর্থন করে যাবে।

সেই নেইমার আবার ফিরছেন। আবার ক্যাম্প ন্যু’তে রাজত্ব করতে এগিয়ে আসছেন। এমনটাই দাবি করছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।

এমনকি বার্সেলোনার সাথে চুক্তিও হয়ে গেছে নেইমারের, এমন খবর প্রকাশ করেছে স্প্যানিশ পত্রিকা স্পোর্ত। স্পোর্তের দাবি, পাঁচ বছরের চুক্তিতে আবারো স্পেনে আসছেন এই ফুটবল সেনসেশন।

চুক্তি অনুযায়ী ২৭ বছর বয়সী নেইমার ৩২ বছর পর্যন্ত মাঠ মাতাবেন বার্সেলোনার জার্সি গায়ে। বকেয়া পরিশোধের যে মামলা করেছিলেন নেইমার, তাও তুলে নিবেন বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

এছাড়াও, আগের পারিশ্রমিকের কম পারিশ্রমিক নিতেও রাজি এই ফুটবলার। বাৎসরিক ৩৭ মিলিয়ন ইউরোর পরিবর্তে এখন নেবেন ২৪ মিলিয়ন ইউরো।

এখন কেবল পিএসজি’র সাথেই লেনদেনের হিসাব বলে জানিয়েছে স্পেনের পত্রিকাটি।

নেইমারের অনিয়ন্ত্রিত জীবনে লাগাম টেনেছিল বার্সেলোনা। বার্সেলোনায় ক্যারিয়ার শুরুর আগে থেকেই ইনজুরিপ্রবণ নেইমারকে কড়া শাসনে রাখা হয়েছিল।

ফলস্বরূপ নেইমার হয়ে উঠেছিলেন বার্সেলোনার অন্যতম ভয়ংকর অস্ত্র। ইনজুরি সমস্যা কাটিয়ে মাঠেই রাজত্ব করছিলেন, মেসির পাশে থেকে খুনে মেজাজে বিধ্বস্ত করেছিলেন একের পর এক প্রতিপক্ষকে।

বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যাওয়ার পর মাঠের পারফরম্যান্সে ঘাটতি হয়ত পড়েনি, তবে মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরেই ছিলেন বেশি। ইনজুরির কারণে বেশিরভাগ সময়েই মাঠে থাকা সম্ভব হয়নি তার।

এছাড়াও কড়া অভিভাবকের মত নেইমারের অনিয়ন্ত্রিত জীবনে লাগাম টানতে পারেনি পিএসজি। অতিরিক্ত পারিশ্রমিক, ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধা দেওয়া নেইমারকে হাতের মুঠোয় রাখা সম্ভব হয় নি ফ্রান্সের শীর্ষ ক্লাবটির।

ফলে বিভিন্ন অনৈতিক কাজেই জড়িয়ে পড়েন নেইমার। দর্শককে ঘুষি মারা কিংবা ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা নেইমার ফ্রান্সে নিজের জীবন নিয়ে অসন্তোষ।

তাই আবার ফিরতে চান স্পেনে। খেলতে চান প্রিয় বন্ধু মেসির পাশে। বার্সেলোনাও রাজি প্রিয় শিষ্যকে ক্যাম্প ন্যু’তে স্বাগত জানাতে।

সত্যিই কি নেইমার আসবেন? আর আসলেও ভক্তরা মেনে নিতে পারবেন? এখন দেখার বিষয় সেটিই।