সাপ্তাহিক বাজার ঊর্ধ্বমুখিতায় শেষ হলেও সোমবার চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের জ্বালানি তেলের বাজার স্থির হয়েছে দরপতনে। বাজারে এদিন পণ্যটির মূল্যহ্রাসের প্রধান কারণ ছিল অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজভুক্ত (ওপেক) ও বহির্ভূত বৃহৎ উত্তোলক দেশগুলোর মধ্যে উত্তোলন বাড়ানোর চুক্তি সই হওয়ার খবর।
নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) এদিন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ব্যারেলে ৫০ সেন্ট। এদিন এখানে আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে পণ্যটির বাজার স্থির হয় প্রতি ব্যারেল ৬৮ ডলার ৮ সেন্টে, যা আগের কার্যদিবসের সর্বশেষ বাজারমূল্যের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ কম। এর আগে শুক্রবার একদিনে পণ্যটির দাম বেড়েছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
অন্যদিকে সোমবার জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট তেলের দাম কমেছে ব্যারেলে ৮২ সেন্ট। আইসিই ফিউচার্স ইউরোপ এক্সচেঞ্জে এদিন পণ্যটির সর্বশেষ বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ৭৪ ডলার ৭৩ সেন্টে। বাজারে পণ্যটির দরপতনের হার ১ দশমিক ১ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বাজারে ইদানীং প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিইর দামের মধ্যকার ব্যবধান (স্প্রেড) বেশ কমে আসছে। দুই বাজার আদর্শের মধ্যকার স্প্রেড কমে আসার কারণ হিসেবে কানাডায় ডব্লিউটিআইয়ের উত্তোলন হ্রাসের বিষয়টিকে চিহ্নিত করেছেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে বাজারে ডব্লিউটিআইয়ের সরবরাহ কমে আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে বাজারে সাম্প্রতিককালে ব্রেন্টের তুলনায় বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে মার্কিন বাজার আদর্শটি।
সার্বিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী বাজারে হঠাৎ এ দরপতনের কারণ ওপেকভুক্ত ও বহির্ভূত বড় উত্তোলক দেশগুলোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। উত্তোলক জোটটির সদস্য দেশগুলোসহ রাশিয়া সম্মিলিতভাবে দৈনিক উত্তোলন বর্তমান পর্যায়ের তুলনায় ১০ লাখ ব্যারেল করে বাড়ানোর বিষয়ে এক চুক্তি সই করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনায় পরবর্তী কার্যদিবসেই নিম্নমুখী হয়ে ওঠে পণ্যটির বাজারদর।
এ বিষয়ে ভিয়েনাভিত্তিক জ্বালানি পণ্যের বাজার গবেষণা সংস্থা জেবিসি এনার্জি রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষকরা সোমবার প্রকাশিত এক নোটে বলেন, সক্রিয় চুক্তিটিতে নতুন কোনো পরিবর্তন আনা ছাড়াই শেষ হয়েছে ওপেকের বৈঠক। বাজারে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে জোটভুক্ত দেশগুলোর বাড়তি কমপ্লায়েন্সকে কমিয়ে আনার পাশাপাশি উত্তোলনকে নিজের প্রয়োজনমাফিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য থেকেই চুক্তিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি ওপেক। তবে চুক্তির শর্তগুলোকে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মতো করেই পালন করে যাচ্ছে। কারণ চুক্তির শর্তগুলোর অর্থ কারো কাছেই খুব একটা পরিষ্কার না। এক্ষেত্রে সৌদি আরবের বক্তব্য হলো, যেসব দেশের বাড়তি উত্তোলনের সক্ষমতা রয়েছে, সেসব দেশ অন্যদের এ উত্তোলনের কোটাপূরণের ঘাটতিটুকু পুষিয়ে দেবে। অন্যদিকে বিষয়টিকে চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবেই দেখছে ইরান। এক্ষেত্রে দেশটির চাওয়া হলো, এর বদলে উত্তোলনের কোটায় সংশোধন এনে তা পুনর্বণ্টন করা হোক।
ওপেকভুক্ত ও বহির্ভূত কয়েকটি দেশ গত বছরের শুরু থেকেই সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি কম পরিমাণে জ্বালানি তেল উত্তোলন করে চলেছে। গত বছরের শুরুর পর্যায় থেকে এখন পর্যন্ত দৈনিক উত্তোলন ১৮ লাখ ব্যারেল কমিয়েছে দেশগুলো।
এ বিষয়ে ইউরোপভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শ্নাইডার ইলেকট্রিকের পণ্যবাজার বিশ্লেষক রবি ফ্রেজার বলেন, ওপেকের এ পদক্ষেপ সামনের দিনগুলোয় বাজারে পণ্যটির অতিমাত্রায় দরবৃদ্ধির ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর পরও যে ভবিষ্যতে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেবে না, এর মাধ্যমে সে নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না।
