তামা উত্তোলনে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা



বৈশ্বিক তামা উত্তোলন খাতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। ২০১০ সালের পর থেকে প্রতি বছরই ব্যবহারিক ধাতুটির বৈশ্বিক উত্তোলনে চাঙ্গাভাব বজায় ছিল। তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম ২০১৭। শীর্ষ উত্তোলনকারী দেশ চিলির খনিগুলোয় অব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক অসন্তোষের জের ধরে সৃষ্ট অচলাবস্থার কারণে এ সময় তামার বৈশ্বিক উত্তোলন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কমে গেছে।
তবে এরই মধ্যে দেশটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া তামা খনিগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে চলতি বছর আবারো প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ফিরতে পারে বৈশ্বিক তামা উত্তোলন খাত। একই সঙ্গে ২০২৭ সাল নাগাদ ব্যবহারিক ধাতুটির বৈশ্বিক উত্তোলনের পরিমাণ বছরে ২ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুত্চালিত গাড়ির (ইলেকট্রিক কার) ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার কারণে তামার ব্যবহার বাড়ছে। মূলত বাড়তি চাহিদার চাপ সামাল দিতেই ব্যবহারিক ধাতুটির বৈশ্বিক উত্তোলন বাড়বে বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিএমআই রিসার্চ।
বিএমআই রিসার্চের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে বিশ্বব্যাপী সব মিলে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টন তামা উত্তোলন হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্যবহারিক ধাতুটির বৈশ্বিক উত্তোলন খাতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছিল। এ সময় তামার বার্ষিক বৈশ্বিক উত্তোলন প্রথমবারের মতো ২ কোটি টনের মাইলফলক ছাড়িয়ে যায়। তবে গত বছর তামার বৈশ্বিক উত্তোলন খাতের ধারাবাহিক চাঙ্গাভাব কমে আসে। ২০১৭ সালে বিশ্ব্বব্যাপী সব মিলিয়ে ২ কোটি টনের সামান্য কম তামা উত্তোলন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিএমআই রিসার্চ, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ কম। ব্যবহারিক ধাতুটির বৈশ্বিক উত্তোলন খাতে এ মন্দাভাবের পেছনে ২০১৭ সালের বড় একটা সময়জুড়ে চিলির খনিগুলোয় বিদ্যমান অচলাবস্থাকে দায়ী করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তামা উত্তোলনকারীদের বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে থাকা দেশটির খনিগুলোয় অব্যবস্থাপনার জের ধরে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। বছরের বড় একটা সময়জুড়ে শ্রমিক অসন্তোষে চিলির কয়েকটি তামা খনির কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ফলে ব্যবহারিক ধাতুটির বার্ষিক উত্তোলনও কমে যায়।
২০১৭ সালের শেষের দিকে অচলাবস্থা কাটিয়ে চিলির তামা খনিগুলোয় পুরোদমে উত্তোলন শুরু হয়। এর জের ধরে চলতি বছর বৈশ্বিক তামা উত্তোলন খাত ফের প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিএমআই রিসার্চ। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বৈশ্বিক তামা উত্তোলন আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময় বিশ্বব্যাপী ব্যবহারিক ধাতুটির সম্মিলিত উত্তোলন ২ কোটি ৪ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর পর থেকে বৈশ্বিক তামা উত্তোলন খাতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সাল নাগাদ ব্যবহারিক ধাতুটির সম্মিলিত বৈশ্বিক উত্তোলন ২ কোটি ৮০ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। চলতি বছর পেরুতে সব মিলে ৫৪ লাখ টন তামা উত্তোলনের সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৭ সাল নাগাদ দেশটিতে ব্যবহারিক ধাতুটির সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন ৬৬ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। তামার বৈশ্বিক উত্তোলন বাড়াতে এ সময় চিলির পাশাপাশি পেরু, অস্ট্রেলিয়া, কানাডার মতো দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।