বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। ন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিদিনই বেড়ে চলছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা।
প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে দুটি ওষুধে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। সেগুলো হলো- হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন। একই সঙ্গে জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল, ঠাণ্ড-সর্দিতে ফেক্সোফেনাডিন এবং শ্বাসকষ্টে অক্সিজেন ও নির্ধারিত ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন ওষুধ দুটি করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য তৈরি হয়নি। অনেক ওষুধ আছে যেগুলো যে রোগের জন্য তৈরি করা হয়েছে তার পাশাপাশি অফ লেভেল অন্য রোগের ক্ষেত্রেও কাজ করে থাকে।
হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন হচ্ছে তেমনই একটি ওষুধ। এটি মূলত ম্যালেরিয়ার ওষুধ হলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরান, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রয়োগ করে ভালো ফল পাওয়া গেছে।
জানা যায়, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় এখনো কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। এ কারণে করোনার রোগীর যেসব উপসর্গ রয়েছে সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেমন যার জ্বর আছে তাকে জ্বরের ওষুধ, সর্দি থাকলে সর্দির ওষুধ, শ্বাসকষ্ট থাকলে শ্বাসকষ্টের ওষুধ দেওয়া হয়।
আরও জানা যায়, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৮২ শতাংশেরই লক্ষণ মৃদু। তাদের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, তারা বাসায় থেকে চিকিৎসা নিলেই হয়। বাকি ১৮ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়। যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাদের হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন দেওয়া হয়।
বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভারত ও শ্রীলংকায় আরও চারটি ওষুধ ট্রায়ালে রেখেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে জাপান ও চীনের দুটি ওষুধ আছে। ট্রায়ালে থাকা এসব ওষুধের কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দেশে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে করোনা ভাইরাস শনাক্তে পরীক্ষা শুরু করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। এর পর এক মাসেরও কম সময়ে ১৬৪ জন করোনার রোগী শনাক্ত হয়েছে।
পেপারস লাইফ/ওষুধ

