বিশ্বজুড়ে মহামারী আকার ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস। চীন থেকে আগত এ ভাইরাস বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কেড়ে নিয়েছে হাজার হাজার প্রাণ। এর ভয়াবহতা থেকে পরিত্রাণের উপায় খুজছে গোটা বিশ্ব। সেই উপায় এখনো অজানা।
এমন ভয়াবহ মহামারী এর আগেও এসেছে। যেখানে লক্ষ লক্ষ্ প্রাণহানির ইতিহাস পাওয়া যায়। মজার ব্যাপার হলো, প্রতি ১০০ বছর পর পর এমন এক মহামারী এসেছে, যা পৃথিবীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে। এমনই এক তথ্য উঠে এসেছে ইন্টারনেট দুনিয়ায়।
যেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রতি একশ’ বছর অন্তর অন্তর এমন এক মহামারীর ভয়াল থাবায় জীবনের অলিখিত অধ্যায় শেষ হয়েছে।
১৭২০ সালে সালের প্লেগ, ১৮২০ সালের কলেরা, ১৯২০ সালের স্প্যানিশ ফ্লু এর পর ২০২০ সালে এসে চাইনিজ করোনা থমকে দিয়েছে পৃথিবী।
পাকিস্তানের অনলাইন পত্রিকা দ্যা নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
১৭২০ সালে বুবোনিক প্লেগের একটি মারাত্মক মহামারী ছিল। এটি ফ্রান্সের মার্সেই থেকে শুরু হয়েছিল এবং পরে একে ‘দ্যা গ্রেট প্লেগ অব মার্সেই’ নামে অভিহিত করা হয়। গবেষকদের মতে, এই মহামারীতে প্রায় এক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
১৮২০ সালে প্রথম কলেরা মহামারীটি ঘটেছিল এশিয়াতে। ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলির মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং ফিলিপাইনের তালিকা করা যায়। এই মহামারিতেও ‘দ্যা গ্রেট প্লেগ অব মার্সেই’ এর সমান সংখ্যক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিলেন বলে গবেষকরা ধারণা করেন।
১৯২০ সালে স্প্যানিশ ইনফ্লুয়েঞ্জা কেড়ে নিয়েছিল প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষের প্রাণ। কোনো কোনো তথ্য মতে তা ছাড়িয়ে যেতে পারে ১০০ মিলিয়ন সংখ্যাও। এবং এই স্প্যানিশ ফ্লু যা প্রায় অর্ধ বিলিয়ন মানুষকে সংক্রমিত করে।
স্প্যানিশ ইনফ্লুয়েঞ্জার ১০০ তম বার্ষিকীতে করোনাভাইরাস নামে একটি নতুন সম্ভাব্য মহামারীর মুখোমুখি পুরো পৃথিবী। চীন থেকে শুরু এ ভাইরাস ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। পুরো পৃথিবী থমকে গেছে এমন মহামারীতে।
করোনাভাইরাস থেকেই হয়ত বুঝতে পারা যায়, বিগত তিনশ’ বছরের তিন মহামারীতে এভাবেই থমকে গিয়েছিল পৃথিবী। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল মানব সভ্যতা, স্থবির হয়ে গিয়েছিল জনজীবন। ঠিক যেমন একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তির যুগে এসেও এভাবে থেমে যেতে হয়েছে।

