যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে শ্লথ হয়ে এলেও যতটা আশঙ্কা করা হয়েছিল তার তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। শুক্রবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর হোয়াইট হাউজে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিপুল অংকের করহার কর্তনের ফলে অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি হবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিল মার্কিন প্রশাসন।
প্রতিবেদনটির জন্য নীতিনির্ধারকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, কারণ করহার কমানোর পর বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এটিই ছিল প্রথম ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাজি ধরে বলেছেন, বর্তমান প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করতে পারবেন, প্রবৃদ্ধির মাত্রা ৩ শতাংশে নিয়ে যাবেন এবং সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করে করহার হ্রাসের কারণে সৃষ্ট ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।
জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে জিডিপি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রাথমিক হিসাবে জানা গেছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকের ২ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় এ হার কিছুটা কম।
তবে সাম্প্রতিক করহার কর্তনের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রণোদনা জোগানো হলেও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির গতি আরো শ্লথ হবে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছিলেন।
অবশ্য অর্থনীতিবিদরা একই সঙ্গে জানিয়েছেন, বর্তমান প্রবৃদ্ধির গতি সম্ভাবনার চেয়েও বেশি। ফলে ৩ শতাংশ হারে টেকসই প্রবৃদ্ধি বাস্তবসম্মত নয়।
ফেডারেল রিজার্ভ আগামী সপ্তাহে সুদের হার বাড়াবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মূল্য ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে অর্থনীতিতে সংকোচন নীতি গ্রহণের ব্যাপারে চাপে থাকতে পারে ফেড।
প্যান্থিয়ন মাইক্রোইকোনমিকসের ইয়ান শেফার্ডসন বলেন, গত বছরের গ্রীষ্মের শেষদিকে হারিকেন প্রথম প্রান্তিকের ফলাফলের ওপর ‘প্রভাব বিস্তার’ করেছে। এর আগের প্রান্তিকে পুনর্গঠন প্রচেষ্টা থেকে অস্থিতিশীল অর্জনের পর ভোক্তা ব্যয় আবার বৃদ্ধি পেয়েছিল।
শেফার্ডসন বলেন, দুই প্রান্তিকের গড় প্রবৃদ্ধি হার ২ শতাংশ, যা আগের ধারা বজায় রাখছে। তবে অর্থনৈতিক প্রণোদনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি ব্যয়ের ফলে প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হবে।
চার বছরের বেশি সময় পর সমাপ্ত প্রান্তিকটিতে ভোক্তা ব্যয় ছিল সর্বনিম্ন। এ ব্যয় মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগের প্রান্তিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে দক্ষিণ ও পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পণ্যের বিক্রি ও সরবরাহ বৃদ্ধি পায়।
তবে শীতের মাসগুলোয় ভোক্তারা কম সংখ্যক গাড়ি এবং কাপড়চোপড় ও জুতা ক্রয় করেন এবং একই সঙ্গে খাবার ও পানীয়তেও কম হারে ব্যয় করেন বলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে। এ সময় আবাসন বাজারও ছিল আঁটসাঁটো।
এদিকে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের ব্যয়ও শ্লথ হয়ে পড়েছে, এর আগের প্রান্তিকের ২ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় এ প্রান্তিকে তা মাত্র দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে রফতানির হারও কমে গেছে।
তবে ব্যবসা মজুদে উচ্চহারে ব্যয়ের ফলে এ ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে গেছে। একের পর এক হারিকেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের পর ভোক্তা চাহিদা মেটাতে কোম্পানিগুলো মজুদ শক্তিশালী করার ব্যাপারে জোর দেয়।
অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ বা এর বেশি হবে, কারণ প্রথম প্রান্তিকে ঝিমিয়ে থাকা উপাত্তগুলোয় চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে।
বেরেনবার্গ ক্যাপিটাল মার্কেটসের মিকি লেভি এক গবেষণায় জানান, মার্চ মাসে আবাসন বাজার এবং ভোক্তা খাতের সূচকগুলো মোটা দাগে শক্তিশালী ছিল, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী সূচনার পথ সুগম করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করছি দ্বিতীয় প্রান্তিকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছবে।
অন্যদিকে খাবার ও জ্বালানি মূল্যর মতো সংবেদনশীল খাত বাদে, অন্য ‘মূল’ ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় সূচক গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রান্তিক পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় এ হার ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। গত দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ হার ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
