বন্যায় দুর্গতদের প্রয়োজনীয় সহায়তায় বারিধারা কমিউনিটির একাত্মতা প্রকাশ



ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করে এসব এলাকার মানুষের সহায়তায় একাত্মতা প্রকাশ করেছে বারিধারা কমিউনিটি। বারিধারা সোসাইটির উদ্যোগে বারিধারা আবাসিক এলাকার ‘নেবার ওয়াচ’ এবং ‘ওআইডিসি ইয়থ নেটওয়ার্ক’ এর সমন্বয়ে গঠিত সেচ্ছাসেবক দলটি বারিধারা এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ত্রানসামগ্রী সংগ্রহের দায়িত্ব নিয়েছে। সকলের সম্মিলিত ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় যে বৃহৎ উদ্দেশ্য সাধন সম্ভব তাই ছিল উক্ত কর্মপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে বন্যার ভয়াবহতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও উপলদ্ধি করে বেসরকারি-সরকারি যাবতীয় সহায়তা ও উদ্যোগের অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে স্থানীয় সম্প্রদায়কে একত্রিত করার অনন্য সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে বারিধারা কমিউনিটির উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ। তৃণমূলের এই প্রচেষ্টা খুব দ্রুতই গতি লাভ করে যখন বাসিন্দারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন। বন্যায় দুর্গতদের সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানে এ সময় বারিধারা পার্কে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকলের মতৈক্যে শুকনো খাবার, চাল, মসুর ডাল, রান্নার তেল, লবণ, স্যালাইন, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও ঔষধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রানসমাগ্রী ‍সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসময় অনুদানের উপযোগিতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশী সেনা/বিমান বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করা হয়।

কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ার সাথে সাথে বারিধারা কমিউনিটির সদস্যদের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া লক্ষ্য করা যায়। পরিবারের সদস্যদের থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ী এমনকি শিশুরাও ত্রানসমাগ্রী সংগ্রহ এবং প্যাকিংয়ে অংশগ্রহণ করে। অনুদান সামগ্রী নির্বিঘ্নে পরিবহনের জন্য এসময় অনেককে নিজস্ব যানবহন ব্যবহারের প্রস্তাব প্রদান করা হয়। বিশেষ করে তরুন প্রজন্মের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ততা কর্ম উদ্যোগটিকে অনুপ্রেরণামূলক ও আগ্রহী করে তোলে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে সংগ্রহ ও প্যাকেজিং এর কাজ এবং কমিউনিটির প্রত্যেকে নিজেদেরে কাজের সময়ের আগে ও পরে এতে অংশ নেয়।

আরও পড়ুনঃ বন্যাকবলিতদের জন্য বৃহত্তর কাশিনাথপুর সোসাইটির বিশেষ উদ্যোগ

অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এ বিষয়ে বারিধারা সোসাইটির সভাপতি জনাব ফিরোজ এম হাসান বলেন, “মানুষ যখন একটি সাধারণ উদ্দেশ্যে একত্রিত হয় তখন কী ঘটতে পারে তা সচক্ষে দেখা অবিশ্বাস্য। আমরা একটি ছোট সম্প্রদায় হতে পারি, কিন্তু আমাদের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। অনন্য এই উদ্যোগটি আমাদের দেখিয়েছে দুঃখজনক পরিস্থিতিতেও যে আশা রয়েছে এবং সেই আশা সাধারণ মানুষের মাঝে সঞ্চার করতে পারলে দারুণ কিছু সম্ভব। আমি সোসাইটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, তরুণ সমাজ এবং বারিধারা সোসাইটির সকল বাসিন্দাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে বৃহৎ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ২০০ টিরও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রান সামগ্রী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলে সেনাবাহিনীর এয়ারফোর্সের সহায়তায় আমরা সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছি।”

একটি ছোট ও তৃণমূলের এই প্রচেষ্টা শক্তিশালী ও সমষ্টিগত পদক্ষেপ হিসেবে অভাবীদের জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। বারিধারা কমিউনিটির সাফল্যমন্ডিত এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে বন্যা দুর্গতদের জন্য শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ত্রান সামগ্রী সরবরাহই করেনি বরং বাসিন্দাদের মধ্যে বন্ধনকে শক্তিশালী করেছে, সহানুভূতি ও ঐক্যের স্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, বারিধারা আবাসিক এলাকার ‘নেবার ওয়াচ’ এবং ‘ওআইডিসি ইয়থ নেটওয়ার্ক’ এর সমন্বয়ে এ স্বেচ্ছাসেবক দলটি গত ৬ আগস্ট একত্রিত হয়ে গঠিত হয়। যেখানে তারা তাদের প্রতিবেশীদের নিরাপত্তা দিতে এবং সুস্থ থাকার বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ডিজিটাল চ্যানেল ব্যবহার করে সারারাত টহল দেয়।