বাংলাদেশে দ্রুত খুলছে জাপানের দুয়ার!


paperslife

জাপানি কোম্পানিগুলো যেসব দেশে কারখানা করেছে, প্রযুক্তি হস্তান্তর করেছে, সেখানে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে।

সম্প্রতি জানা গেছে বাংলাদেশের জন্য দ্রুত খুলে যাচ্ছে জাপানের বাণিজ্যের দুয়ার। বাংলাদেশে এখন জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। এর পাশাপাশি জাপান সরকার বাংলাদেশে তাদের উন্নয়ন সহায়তা বাড়িয়েছে। সেইসাথে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের রপ্তানিও বাড়ছে। আর এতে করে জাপান  ক্রমেই বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার হয়ে উঠছে।

এ ব্যাপারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, জাপানের মতো বিনিয়োগকারী দেশ যখন কোনো দেশে যায়, তখন অন্য বিনিয়োগকারীরাও সেখানে বিনিয়োগের চিন্তা করে।

এসময় তিনি আরও জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আজকের উন্নতির জন্য জাপানের ভূমিকাকে অনেক বড় বলে মনে করা হয়। এছাড়াও, জাপান অনেক দিন ধরেই চীনের পাশাপাশি অন্য দেশে কারখানা করার ওপর জোর দিচ্ছে, যাকে ‘চীন প্লাস ওয়ান’ নীতি বলা হয়। বাংলাদেশের উচিত যেসব ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা কম, সেখানে জাপানিদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। বিশেষ করে যন্ত্রপাতি, সংযোগ শিল্প, কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগ ভালো হবে।

জানা যায়,জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে বাংলাদেশে  জাপানি কোম্পানির সংখ্যা ছিল ৭০টি। ২০১৮ সালে সেটি ২৭৮-এ উন্নীত হয়েছে।

এছাড়াও, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কারখানা করেছে জাপানের মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড হোন্ডা। ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের কারখানা করেছে এসিআই, যেখানে সহায়তা দিয়েছে জাপানের ইয়ামাহা মোটর করপোরেশন। তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান জাপান টোব্যাকো গত জুনে দেশের আকিজ গ্রুপের তামাক ব্যবসাও কিনে নেয়।

বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ইস্পাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিপ্পন স্টিল অ্যান্ড সুমিতমো মেটাল দেশীয় প্রতিষ্ঠান ম্যাকডোনাল্ড স্টিল বিল্ডিং প্রোডাক্টসের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইস্পাত কারখানা করছে। তারা ১০০ একর জমি বরাদ্দের বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে চুক্তি করেছে।

জাপানের সজিত করপোরেশন মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প পার্ক করতে চাইছে। জাপানের সুমিতমো করপোরেশন জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজ করতে গত রোববার চুক্তি করেছে বেজার সঙ্গে।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল এই সময়ে জাপানে ১১৭ কোটি ডলারের বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। সেইসাথে জাপান থেকে বাংলাদেশের পণ্য আমদানিও বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে ১৮৭ কোটি ডলারের জাপানি পণ্য আমদানি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) জেনারেল সেক্রেটারি তারেক রাফি ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশে আরও অনেক জাপানি কোম্পানি বিনিয়োগ করবে। এতে করে দেশের প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে।