বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে চা



দেশের বাজারে চায়ের দাম তুলনামূলক বাড়তি রয়েছে। একই সঙ্গে চলতি মৌসুমের নিলামগুলোয় পণ্যটির সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে চায়ের দামে। কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চা। আসন্ন বাজেটে চায়ের আমদানি শুল্ক কমার আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ফলে দেশের বাজারে চায়ের দাম কমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২৯ মে চট্টগ্রামে চলতি মৌসুমের ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিটিএ) তথ্য অনুযায়ী, এ নিলামে ২০ হাজার ৫৭৪ প্যাকেটে ১১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৫ কেজি চা সরবরাহ হয়েছে। আগের বছরের একই নিলামে ২৫ হাজার ৯৩ প্যাকেটে মোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬৫ কেজি চা সরবরাহ হয়েছিল।
সেই হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে একই নিলামে পণ্যটির সরবরাহ কমেছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩০ কেজি। গত ২২ মে অনুষ্ঠিত পঞ্চম নিলামেও আগের বছরের প্রায় সমান চা সরবরাহ হয়েছিল। পর পর কয়েকটি নিলামে চায়ের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় পণ্যটির দাম বাড়ছে।
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিলামের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ মৌসুমের ৩০তম নিলামে চায়ের দাম ওই মৌসুমের সর্বোচ্চে উঠেছিল। ওই নিলামে প্রতি কেজি চায়ের দাম উঠেছিল ২৩১ দশমিক ৯৪ টাকা। চলতি ২০১৮-১৯ নিলাম বর্ষের প্রথম নিলাম থেকেই চায়ের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকার উপরে রয়েছে। প্রথম নিলামেই প্রতি কেজি চায়ের দাম ২১৬ টাকায় উঠেছিল।
পরের নিলামে পণ্যটির দাম কিছুটা কমে দাঁড়ায় কেজিপ্রতি ২০৯ টাকায়। মৌসুমের তৃতীয় নিলামে প্রতি কেজি চা ২০৬ টাকায় বিক্রি হয়। চতুর্থ ও পঞ্চম নিলামে পণ্যটি বিক্রি হয় যথাক্রমে ২২৩ ও ২১৮ টাকায়। সর্বশেষ ষষ্ঠ নিলামে চায়ের দাম ২২৫ টাকায় ওঠে। চলতি মৌসুমের পরবর্তী নিলামগুলোয় সরবরাহ বৃদ্ধি না পেলে চায়ের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।