বাড়তে পারে জ্বালানি তেলের দাম



আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বাড়তি উত্তোলনের পরও সরবরাহ সীমিত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে। এ সম্ভাবনা সামনে রেখে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দামের প্রাক্কলন আগের তুলনায় বাড়িয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান।
প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চলতি ও আগামী বছর ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম প্রতি ব্যারেলে ৭০ ডলার হতে পারে।
জেপি মরগানের সাম্প্রতিক এক নোটে বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ৭০ ডলারে দাঁড়াতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে জ্বালানি পণ্যটির সম্ভাব্য গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলার প্রাক্কলন করা হয়েছিল। ২০১৯ সালেও প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ৭০ ডলারে অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। আগের প্রতিবেদনে ২০১৯ সালের জন্য জ্বালানি পণ্যটির প্রাক্কলিত গড় দাম ধরা হয়েছিল ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার। সর্বশেষ কার্যদিবসে আন্তর্জাতিক বাজারে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড ৭৪ ডলারে বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জ্বালানি পণ্যটির সম্ভাব্য গড় দাম বর্তমানের তুলনায় কমে আসতে পারে।
প্রেতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ৭০ ডলার প্রাক্কলন করার পেছনে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে বিদ্যমান অনিশ্চয়তাকে চিহ্নিত করেছে জেপি মরগান। প্রতিষ্ঠানটির নোটে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারকদের জোট অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে জোটভুক্ত দেশগুলো জ্বালানি তেলের ঠিক কী পরিমাণ উত্তোলন বাড়াবে, তা নিশ্চিত নয়। উত্তোলন বাড়বে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ ওপেকের বাইরে থাকা দেশগুলোতেও। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বেড়ে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাড়তি সরবরাহের এ সম্ভাবনা নিয়ন্ত্রণ হতে পারে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে। আগামী নভেম্বরে তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ইরান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি ইরানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য বাজার ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্য আমদানিতে সংশয়ে রয়েছে। যদি নভেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি জ্বালানি তেলের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ে, তবে বাড়তি উৎপাদন সত্ত্বেও দাম বাড়তে শুরু করবে। এ সম্ভাবনা মাথায় রেখেই আগের পূর্বাভাস সংশোধন করে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দামের প্রাক্কলন বাড়িয়েছে জেপি মরগান।
এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদায় প্রবৃদ্ধির দাঁড়াতে পারে দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেলে, যা প্রতিষ্ঠানটির আগের প্রাক্কলনের তুলনায় দৈনিক দুই লাখ ব্যারেল কম। অন্যদিকে ২০১৯ সালে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদায় প্রবৃদ্ধি হতে পারে দৈনিক ১১ লাখ ব্যারেলে। প্রতিষ্ঠানটির আগের প্রাক্কলনের তুলনায় আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা প্রবৃদ্ধি দৈনিক এক লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে। অন্যদিকে ২০১৮ সালে ওপেকভুক্ত দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন ৩ কোটি ২৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।