করোনাভাইরাসের কথা বিল গেটস বুঝি পাঁচ বছর আগেই জানতেন! ২০১৫ সালে টেডএক্সে একটি বক্তব্য দিতে গিয়ে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বলেছিলেন, সংক্রামক ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত।
তিনি বলেছিলেন, আগামী কয়েক দশকে কোনো কারণে যদি লাখ লাখ মানুষ মারা পড়ে, তাহলে কারণটি মোটেও যুদ্ধ হবে না; মানুষ মারা পড়বে ভীষণ সংক্রামক কোনো ভাইরাসের সংক্রমণে। মানুষ মিসাইলের আঘাতে প্রাণ হারাবে না, প্রাণ যাবে ক্ষুদ্র জীবাণুতে। এর কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো, আমরা পারমাণবিক প্রতিরোধক তৈরিতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছি; অথচ একটি মহামারি ঠেকানোর সিস্টেমের বেলায় সত্যিকার অর্থে আমাদের বিনিয়োগ সামান্যই। আমরা পরবর্তী মহামারির জন্য প্রস্তুত নই।
অবশ্য শুধু এটাই নয়। বিজনেস অ্যাট দ্য স্পিড অব থট। ১৮ বছর আগে এই শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছিলেন বিল গেটস। বইটিতে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বেশ কিছু অনুমান করেছিলেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা। আর সেই অনুমান মিলে গেলো আজকের বাস্তবতার সঙ্গে।
বিল গেটস বলেছিলেন, একসময় মানুষ ছোট যন্ত্র বহন করতে শুরু করবে, যে যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁরা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবে। সেইসঙ্গে সংবাদ পড়তে পারবে, বিমানের শিডিউল জানতে পারবে এবং অন্য অনেক কিছু করতে পারবে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে তার বর্ণনা মিলে যাচ্ছে বর্তমানের স্মার্টফোনের সঙ্গে।
শুধু তাই নয় এমন আরো কিছু ভবিষ্যৎ কল্পনা করেছিলেন তিনি; নিজের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা বা যোগাযোগের জন্য ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হবে বলেও লিখেছিলেন বিল। অন্যভাবে বলতে গেলে ফেসবুক বা মাইস্পেসের জন্মের আগেই এই ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ধারণা দিয়েছিলেন তিনি।
বিল গেটস লিখেছিলেন, ভবিষ্যতে এমন এক ধরনের সেবা পাওয়া যাবে যার মাধ্যমে ক্রেতা একটি মাধ্যম ব্যবহার করে পণ্যের দামের তুলনা করতে পারবেন। একটি যন্ত্রই জানাবে আপনাকে কী কিনতে হবে এবং আপনার রুচি ও অভ্যাস অনুযায়ী পণ্যই আপনার সামনে বিজ্ঞাপন আকারে আসবে। ভেবে বলুন তো কিসের সাথে মেলে?
একসময় অনলাইন ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সম্প্রদায় গঠন করবেন। আর এজন্য স্থান বা দূরত্ব কোনো বিষয় হবে না। এই অনুমানের সঙ্গে রেডিট দারুণভাবে মিলে যায়।
বিল গেটস অনুমান করেছিলেন, একসময় মানুষের ব্যবহার করা বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে একধরনের যোগাযোগ তৈরি সম্ভব হবে। ফলে যেকোনো সময় যেকোনো যন্ত্রের তথ্যের সাহায্য নেওয়া যাবে। অ্যামাজনের ইকো এ ভবিষ্যদ্বাণীর একটি দারুণ উদাহরণ হতে পারে।
নিয়োগকর্তারা অনলাইনেই পছন্দমতো কর্মী খুঁজে পাবেন বলেও জানিয়েছিলেন বিল গেটস। তিনি বইতে লেখেন, ‘প্রকল্প পরিচালকরা অনলাইনেই দল গঠনের জন্য কর্মী খুঁজে পাবেন। অনলাইনেই কাজ নিয়ে আলোচনা করা যাবে এবং কর্মীর সহজলভ্যতা অনুযায়ী পছন্দীয় কর্মী বাছাই করতে পারবেন।’ আর এই ব্যবস্থাই এখন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফরওয়্যারের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
নিজের লেখা বইয়ে বিল গেটস আশা প্রকাশ করেছিলেন, ভবিষ্যতে মানুষ অনলাইনেই চাকরি খুঁজবে। আর ১৮ বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে সত্যিই অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে মানুষ চাকরি খুঁজছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে চাকরির জন্য দরখাস্তও জমা দেওয়া যায়।

