বিসিজি টিকা পাওয়া ব্যক্তিদের করোনায় অসুস্থতা কম


৯ মাসে করোনায় ৯ লাখের বেশি মৃত্যু


সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিসিজি টিকা পাওয়া ব্যক্তিদের করোনাজনিত অসুস্থতা কম থাকে। বিসিজি টিকা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মারাত্মক ক্লান্তি কম দেখা যায়। নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, গ্রিস ও জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২৪ জন বিশেষজ্ঞ এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।

সম্প্রতি তাঁদের গবেষণা প্রবন্ধটি চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী সেল রিপোর্টস মেডিসিন প্রকাশ করেছে।

দেশটির গবেষকেরা দেখেছেন, বিসিজি দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে করোনাজনিত অসুস্থতা তুলনামূলকভাবে কম। টিকা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা ও ক্লান্তিতে ভোগার হার কম দেখা গেছে। তবে সর্দি বা নাক দিয়ে পানি পড়ার প্রবণতা দুই দলেই প্রায় সমান দেখা গেছে।

গবেষকেরা বলছেন, করোনা মহামারিকালে বিসিজি টিকা নিরাপদ। এই টিকা কোনো মারাত্মক প্রদাহের কারণ হয়ে দেখা দেয় না। এই টিকা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে করোনাজনিত অসুস্থতা ও মারাত্মক ক্লান্তি কম দেখা গেছে। তবে এই টিকা দেওয়ার কারণে করোনা সংক্রমণ কমে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের গবেষণা হওয়া দরকার।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মহামারিতে পরিণত হবার পর ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে বা বিসিজি টিকা পাওয়া জনগোষ্ঠীতে করোনার প্রকোপ কম দেখা যাচ্ছে—এসব ধারণা একসময় বেশ গুরুত্ব পেতে থাকে।

অবশ্য এপ্রিল মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, করোনার ওপর বিসিজি টিকার প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য একাধিক গবেষণা চলছে।

বিসিজি (ব্যাসিলি কালমেটি-গুরেন) টিকা সহজাত রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে বৃদ্ধি করে এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শৈশবকালীন যক্ষ্মা প্রতিরোধে এই টিকা দেওয়া হয়। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে শিশুদের বিসিজি টিকা দেওয়া শুরু হয়। বর্তমানে ৯৯ শতাংশ শিশু এই টিকা পায়।