একশ বছরের ব্যবধানে বিশ্বে দুটি মহামারি দেখা দিয়েছে। দুই মহামারীর সাক্ষী ছিলেন রেণুকা চক্রবর্তী। টালিগঞ্জের এই তায়ু নারীর জন্ম হয়েছিল এক মহামারীর মধ্যে। আরেক মহামারিতে চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে।
রেনুকা চক্রবর্তীর জন্ম ১৯২০ সালের ১১ জুন। তার জন্মের সময় বিশ্বে শুরু হয়েছিল ইনফ্লুয়েঞ্জার মারণ কামড়। যার ভয়াবহতা কেড়ে নেয় কয়েক কোটি মানুষের প্রাণ।
এরই মাঝে এক এক করে ৯৯তম জন্মদিন কাটিয়েছিলেন ২০১৯ সালে। বৃহস্পতিবার ছিল তার শততম জন্মদিন। ফলে সকাল থেকেই পরিবারে ছিল বাঁধভাঙা উল্লাস।
তাকে সাজিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দেন ছেলে মনোতোষ চক্রবর্তী। পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ করে একসঙ্গে গেয়ে ওঠেন, হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ … । রেণুকা দেবীও খুব খুশি ছিলেন। তৃপ্তি সহকারে খেয়েছিলেন জন্মদিনের পায়েস।
প্রদীপের হালকা আলোয় শতবর্ষ ছোঁয়ার বিশেষ মুহূর্ত নিয়ে বাড়িতে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। এরপর রাত ৯টা নাগাদ অন্য দিনের মতো রাতের খাবার খাইয়ে দেওয়া হয় রেণুকা চক্রবর্তীকে ।
এরপর হঠাৎ ছন্দপতন ঘটতে থাকে। রাত ১০ টা পাঁচ মিনিটে হঠাৎ করেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার। শ্বাসকষ্ট তীব্র আকার নেয় ১০ মিনিটের মধ্যেই। ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ বাড়িতে পৌঁছান চিকিৎসক; কিন্তু ততক্ষণে না ফেরার দেশে চরে যান রেনুকা।
তার ছেলে মনোতোষ চক্রবর্তী জানান, কীভাবে কি হয়ে গেল বিশ্বাস হচ্ছে না। ১৫ মিনিট আগেও মা কথা বললেন। সবার সঙ্গে কত আনন্দ করলেন। কিন্তু জন্মদিন এভাবে শেষ হবে ভাবিনি।

