আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু নিউমার্কেটে শুরু হয়েছে ঈদ কেনাকাটার ধুম।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ছুটির বিকেলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মাসের শুরুতেই বেতন পাওয়ায় ভিড় এড়াতে অনেক ক্রেতাই এবার আগেভাগে সেরে নিচ্ছেন ঈদের প্রস্তুতি।
সাপ্তাহিক ছুটিতে জনসমুদ্র
শুক্রবার বিকেলের ম্লান রোদে নিউমার্কেট এলাকায় পা ফেলাই যেন দায়। গাউছিয়া, চাঁদনী চক থেকে শুরু করে মূল নিউমার্কেটের অলিগলিতে এখন কেবল মানুষের মাথা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত—উত্তরা, মিরপুর কিংবা বনশ্রী থেকে ক্রেতারা ছুটে এসেছেন তাদের পছন্দের পোশাকটি বেছে নিতে। মূলত পরিবারের নারী ও শিশুদের কেনাকাটা দিয়েই শুরু হয়েছে এই উৎসবের আমেজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুতি থ্রি-পিস, বাহারি ডিজাইনের শাড়ি এবং কসমেটিকসের দোকানে পা ফেলার জায়গা নেই। ব্যবসায়ীদের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের দরদামে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কেবল পোশাকই নয়, জুতা ও ঘর সাজানোর অনুষঙ্গের দোকানগুলোতেও ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়।
কেনাকাটায় আগাম প্রস্তুতির ঝোঁক
এবার কেনাকাটার ধরনে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। রমজান শুরুর আগেই বা রমজানের একদম শুরুতে কেনাকাটা শেষ করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মিরপুর থেকে আসা গৃহিণী শাহানা আক্তার বলেন, “ঈদের শেষ দিকে মার্কেটে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। প্রচণ্ড গরমে বাচ্চাদের নিয়ে কেনাকাটা করা তখন যন্ত্রণার হয়ে দাঁড়ায়। তাই মার্চ মাসের বেতন পাওয়ার পরপরই আজ চলে এসেছি। ভিড় থাকলেও অন্তত শান্তিতে জিনিস দেখে কেনা যাচ্ছে।”
অনেকের মতে, রোজার শেষ দিকে দর্জিবাড়ির ব্যস্ততা বেড়ে যায়, ফলে সময়মতো পোশাক পাওয়ার অনিশ্চয়তা থাকে। সেই ভোগান্তি এড়াতেই মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত অনেক পরিবার এখন ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে কেনাকাটা সারছেন।
স্থিতিশীল রাজনীতি, আশাবাদী ব্যবসায়ীরা
বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকায় তারা এবার বড় অংকের বিক্রির আশা করছেন। কোনো ধরনের হরতাল বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ভয় না থাকায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় বাজারেই আত্মবিশ্বাস ফিরেছে।
নিউমার্কেটের এক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, “গত বছরগুলোতে নানা কারণে মানুষ বাজারে আসতে দ্বিধা করত। কিন্তু এবার পরিবেশ খুব ভালো। আমরা নতুন নতুন ডিজাইনের কালেকশন তুলেছি। আশা করছি, ১৫ রোজার পর ভিড় আরও কয়েকগুণ বাড়বে।”
নিউমার্কেটের এই চনমনে ভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এবারের ঈদ অর্থনীতি বেশ চাঙ্গা হবে। তবে ক্রেতাদের একটি বড় অংশ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ঈদ উপলক্ষে যেন পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে না যায়।

