যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের শরীরে পরীক্ষা করা প্রথম করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে এ ভ্যাকসিনের উৎপাদক মার্কিন বায়োটেক কোম্পানি মর্ডানা।
গতকাল সোমবার এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সম্পর্কে ইতিবাচক কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে মডার্না দাবি করেছে, ভ্যাকসিন পাওয়া স্বাস্থ্যকর স্বেচ্ছাসেবকেরা অ্যান্টিবডি তৈরি করেছিলেন, যা তারপরে ল্যাবে মানবকোষে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তা ভাইরাসটিকে প্রতিলিপি তৈরি করা থেকে আটকাতে সক্ষম হয়েছিল। কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরির জন্য ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি ঠেকানোটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় দেখা গেছে, যাঁরা ভাইরাসের সংক্রমণের পরে সুস্থ হয়েছেন, তাঁদের অ্যান্টিবডির সঙ্গে পরীক্ষায় পাওয়া নিষ্ক্রিয় অ্যান্টিবডির মাত্রাগুলোর মিল রয়েছে।
মডার্না বলেছে, শিগগিরই ৬০০ জনকে নিয়ে পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করতে যাচ্ছে তারা। এ পর্যায়ে ৬০০ জনের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে ফল পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর জুলাই মাসে পরীক্ষার তৃতীয় ধাপ শুরু করা হবে। এ সময় হাজারো স্বাস্থ্যবান মানুষের ওপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হবে।
উল্লেখ্য, মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ৮ জন স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে এ ভ্যাকসিন নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষার জন্য ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল। তাঁদের শরীরে দুই ডোজ করে এ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। প্রথম আটজন ব্যক্তির শরীরে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই ফলাফল পাওয়া গেছে।
মডার্নার প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা টাল জ্যাকস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এ মাসের শুরুতেই এ ভ্যাকসিন দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার অনুমেোদন দিয়েছে। যদি পরীক্ষা ভালো ফল আসে, তবে এ বছরের শেষ নাগাদ বা ২০২১ সালের শুরুতেই সর্বব্যাপী ব্যবহারের জন্য ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে।

