মিল রয়েছে মানুষ ও ইঁদুরের কন্ঠে?


paperslife

যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একজন মানুষ অন্যজন মানুষের উত্তর দিয়ে থাকেন। আবার মধ্য আমেরিকার এক ধরনের ইঁদুর রয়েছে, যারা গান গেয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে। কিন্তু মস্তিষ্কের কোন প্রক্রিয়ায় সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে এই প্রত্যুত্তর সম্ভব? তাই নিয়েই কাজ করছে আমেরিকা নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক। আর ইঁদুরের উপর গবেষণা করেই এই রহস্যের সমাধান মিলবে।

নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি ওয়ার্ল্ডের মতো সংবাদমাধ্যম এবং ফোর্বস, ডিসকভারের মতো পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁদের গবেষণা।

গবেষকদের মতে, কোস্টারিকা, পানামা-সহ মধ্য আমেরিকার কিছু জায়গায় বিশেষ এক প্রজাতির ইঁদুর রয়েছে। তাদের বৈশিষ্ট্য হল— তারা পাখিদের মতো গান করে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাইকেল লং কয়েক বছর আগে এদের মস্তিষ্কে তথ্য আদানপ্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। পরে এক বাঙালি যুক্ত হন এই পরীক্ষায়। ভারতের অর্করূপ বন্দ্যোপাধ্যায় এই গবেষণা নিয়ে বিস্তর জানান ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাকে।

অর্করূপদের দাবি, নিরীক্ষণ করে দেখা যায়, এই প্রজাতির ইঁদুর (সিঙ্গিং মাইস) একা থাকলে এক ভাবে গান গায়। অন্যদের সঙ্গে থাকলে গানের ধরন বদলে যায়। এক জনের গান শেষ হলে অপর জন গেয়ে ওঠে। স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রে অন্যের কথায় সাড়া দিতে ২০০ মিলি সেকেন্ড সময় লাগে। ওই প্রজাতির ইঁদুরদের ক্ষেত্রে এই সময় ৫০০ মিলি সেকেন্ড।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, ইঁদুরের মস্তিষ্কের ‘মোটর কর্টেক্স’ অংশ গানের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই অংশকে কয়েক ঘণ্টার জন্য নিষ্ক্রিয় করে দেখা যায়, ইঁদুর গাইতে পারছে কিন্তু অন্যের গানে সাড়া দিতে পারছে না। গবেষকদের বক্তব্য, অন্যের কথায় সাড়া দেওয়ার ব্যাপারে ওই ইঁদুরের সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্কের ‘পদ্ধতিগত মিল’ রয়েছে।

অর্করূপের বক্তব্য, স্ট্রোক হলে অন‌েক মানুষের বাকশক্তি হারিয়ে যায়। অটিজমের ক্ষেত্রেও বাকশক্তির সমস্যা হয়। পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেকে অপরের কথার উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দিতে পারেন না। ইঁদুরের মস্তিষ্কের এই বিশেষ অংশের কাজের ধরন দেখে মানুষের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। এই সম্পর্কে পুরোপুরি জানা গেলে এই সম্পর্কিত অসুখের চিকিৎসা সহজ হবে।

গবেষকদের মতে এই সূত্র নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলে কাজ হবে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে আসতে পারে নতুন সাফল্য, ‘‘এটা একটা সূত্র। সূচনা। ভবিষ্যতে হয়তো আরও অনেক বেশি জানা যাবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এটা খুব ফলপ্রসূ হতে পারে।’’

অর্করূপ এবং তাঁর পরামর্শদাতা লং ছাড়াও এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ড্যানিয়ে‌ল নামে আরও এক বিজ্ঞানী।