পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ভিন্নরূপে নিজের বাড়িকে সাজিয়েছেন রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার।
গত প্রায় ৪০ বছর থেকেই প্রতি পহেলা বৈশাখে নিজের বাড়িতে আল্পনা আঁকেন ওই পরিবার। তারই ধারাবাহিকতায় এবারেও তা বাদ যায় নি।
নাচোল উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের টিকোল গ্রামের দরিদ্র দাশু বর্মণের স্ত্রী দেখন বর্মণ ও তার তিন মেয়ের হাতে আঁকা এই চিত্রগুলো ইতোমধ্যেই এলাকায় মানুষের আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীরা এই সুন্দর বাড়িটির নাম দিয়েছে ‘নকশাওয়ালা বাড়ি’।
এছাড়াও, বাড়িটি দেখার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকেই মানুষ যাচ্ছে।
দাশু বর্মণের বড় মেয়ে অনিকা বর্মণ বলেন জানান, তার বাবা কৃষিকাজ করে তাদের সংসার চালান। বাড়ির সামান্য কিছু জমি আর ৪টি মাটির ঘরই তাদের সম্বল। ৩৯ বছর আগে থেকে, মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিয়ের পিড়িতে বসে তার মা দেখন বর্মণ। তখন থেকেই বাড়িতে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের আল্পনা আঁকতে শুরু করেন তার মা। বর্তমানে দাশু বর্মণ ছাড়াও তাঁর দুই মেয়ের জামাই আর্থিক সহায়তা এবং তিন মেয়ে আল্পনা আঁকার কাজ করছেন।
এ ব্যাপারে অনিকা বলেন, আগে তার মা, কালো, সাদা ও লালমাটির তৈরি বিশেষ রঙ দিয়ে আল্পনা আঁকতেন। গত কয়েক বছর থেকে বাড়ির চারটি মাটির ঘরের দেয়ালে আল্পনার কাজে রঙের সঙ্গে তারা বার্নিশ অয়েল এবং এক ধরনের আঠা ব্যবহার করছেন । এর ফলে আল্পনার সৌন্দর্যও বেড়েছে বলে জানান তিনি।
অনিকা আরও জানান যে, তারা শুধুমাত্র তিন বোন। কোন ভাই নেই তাদের । এবং তিন বোনেরও কোনো ছেলে নেই। অনিকার স্বামীও পহেলা বৈশাখের আল্পনা আকায় তাদেরকে আর্থিক সাহায্য করেন।
অনিকার বড় মেয়ে রিমা বর্মণ এবার নাচোল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ছোট মেয়ে প্রিয়ন্তি বর্মণের বয়স আড়াই বছর। মেজ বোন স্বামী পরিত্যক্তা বনিকা বর্মণের একমাত্র মেয়ে সাথী পার্শ্ববর্তী একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ছে। তার ছোট বোন ববিতা বর্মণের একমাত্র মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে।
দরিদ্র এই পরিবারটি মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে সরকার ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের আন্তরিক সহায়তার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়াও অনিকা বর্মণ বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাদের এই বাড়িটি দেখতে আসে এবং সবার সাথে কথা বলতে কোন কোন সময় বাড়িতে রান্না করারও সুযোগ পান না।

