আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল ইরানের অর্থনীতি। এ সময় স্থবির হয়ে এসেছিল দেশটির রফতানি বাণিজ্য। ভঙ্গুর অর্থনীতির গতি ফেরাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের স্বপ্ন থেকে সরে আসে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে চুক্তির পর ধীরে ধীরে উঠে যেতে শুরু করে নিষেধাজ্ঞা। গতি ফেরে দেশটির অর্থনীতিতে।
সম্প্রতি এ চুক্তি বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুমকি দিয়েছেন তিনি। অন্য অনেক খাতের মতো ইরানের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রফতানি খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে দেশটির এলপিজি রফতানি বাণিজ্য।
বিশ্বের দশম শীর্ষ এলপিজি উৎপাদনকারী দেশ ইরান। জ্বালানি পণ্যটির মোট বৈশ্বিক উৎপাদনের ২ দশমিক ৯ শতাংশ এককভাবে উৎপাদন করে দেশটি। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর প্রতি বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলপিজি রফতানি হয়। জ্বালানি পণ্যটির রফতানিকারকদের তালিকায় ইরানের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম। মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দূরপ্রাচ্য ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো ইরানে উৎপাদিত এলপিজির সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড পরিমাণ এলপিজি রফতানি হয়েছে। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৫ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি রফতানি করে দেশটি, যা তেহরানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সর্বোচ্চ। তবে এক মাস না যেতেই দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি কমে দাঁড়ায় ৪ লাখ টনে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ লাখ ২০ হাজার টন কম।
পরের দুই মাসে (মার্চ ও এপ্রিল) ইরানের এলপিজি রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও তা গত জানুয়ারির তুলনায় বেশ কম ছিল। মার্চে দেশটির রফতানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজি রফতানি করেছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৪০ হাজার টন বেশি। অন্যদিকে এপ্রিলে ইরান থেকে জ্বালানি পণ্যটি রফতানির পরিমাণ ৬০ হাজার টন বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ লাখ টনে। মাচ-এপ্রিলে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকলেও মে মাসে এসে ফের মন্দার সম্মুখীন হয়েছে ইরানের এলপিজি রফতানি খাত। এ সময় দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটি রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ইরান থেকে এলপিজি রফতানি ৩০ হাজার টন কমেছে।
ইরানের এলপিজি রফতানি বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ার পেছনে দুটি কারণ চিহ্নিত করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। প্রথমত. সংস্কারকাজের জন্য বেশ কয়েকটি সক্রিয় কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন বন্ধ থাকায় ইরানে এলপিজির উৎপাদনও গতি হারিয়েছে। দ্বিতীয়ত. তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনায় ইরানের কাছ থেকে জ্বালানি পণ্য কিনতে ক্রেতা দেশগুলো সংশয়ে থাকায় পণ্যটির রফতানি আগের তুলনায় কমেছে। এটাও ইরানে উৎপাদিত এলপিজি রফতানি কমার বড় একটি কারণ। এ বিষয়ে লন্ডনভিত্তিক তুলেত প্রিবন ব্রোকারেজের প্রধান টবিয়াস ডেভিস বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ঝামেলায় পড়বেন এলপিজি ক্রেতারা। এ কারণে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা আসার আগে অনেক ক্রেতাই ঝামেলা এড়াতে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে আগ্রহী নয়। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির এলপিজি রফতানি বাণিজ্যে।
