আইফোন টেন উৎপাদন বন্ধ করছে অ্যাপল



আইফোন টেনের উৎপাদন বন্ধ করছে প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল। বিক্রির দিক থেকে আইফোন টেন প্রত্যাশা ছুঁতে না পারায় খারাপ সময় পার করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণে স্থায়ীভাবে ডিভাইসটির উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকিং অ্যান্ড ফিন্যান্স গ্রুপ মিরাবড সিকিউরিটিজের সহপ্রধান নিল ক্যাম্পলিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে ফোর্বস জানায়, অ্যাপল নতুন করে আর এক ইউনিটও আইফোন টেন উৎপাদন করবে না। ডিভাইসটি নিয়ে অ্যাপলের অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হয়নি।
নিল ক্যাম্পলিং সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, আইফোন টেন উৎপাদন বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপলের বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠানো একটি নোট তার হাতে রয়েছে। ডিভাইসটির বিক্রি প্রত্যাশা ছুঁতে না পারার জন্য চড়া মূল্যকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইফোন টেন উন্মোচন মঞ্চে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছিলেন, দশকপূর্তি সংস্করণের মাধ্যমে আইফোনের সংজ্ঞাই বদলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কী রয়েছে আইফোন টেনে?
২০১৪ সালে আইফোন ৬ ও ৬ প্লাস দিয়ে বড় ডিসপ্লের স্মার্টফোন বাজারে প্রবেশ করেছিল অ্যাপল। সর্বশেষ আইফোন টেনের অল-স্ক্রিন ডিজাইন এবং এজ-টু-এজ ডিসপ্লে চমক সৃষ্টি করে। ডিভাইসটির ওএলইডি (অর্গানিক লাইট-এমিটিং ডায়োড) ডিসপ্লে, যা এলসিডি ডিসপ্লের তুলনায় কয়েক গুণ ভালো। আইফোন এক্সে ২৪২৬–১১২৫ রেজল্যুশনের ৫ দশমিক ৮ ইঞ্চি সুপার রেটিনা ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়। আইফোন টেনের মাধ্যমে হোম বাটনের প্রচলন বন্ধ করা হয়। টাচ আইডির প্রচলনেরও সমাপ্তি টানা হয়েছে।
আইফোন টেন আনলক করতে আঙুলের ছাপ নয়, ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তি আনা হয়েছিল। যাকে বল হয় ‘লার্ন ইওর ফেস’ প্রযুক্তি। এতে ‘ট্রু-ডেপথ ক্যামেরা সিস্টেম’ ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহারকারীর চেহারার সঙ্গে হুবহু মিল রেখে তৈরি থ্রিডি মাস্ক দিয়েও অন্য কেউ ফোন খুলতে পারবে না। ডিভাইসটিতে এ১১ বায়োনিক প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। আনা হয়েছে ইমোজির প্রাণবন্ত সংস্করণ অ্যানিমোজি।
ডিভাইসটিতে কিউআই ও এয়ারপাওয়ার ওয়্যারলেস চার্জার নতুনত্ব হিসেবে পরিচয় করানো হয়। আইফোন টেনে ১২ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স এবং জুম করার জন্য দ্বিতীয় একটি টেলিফোটো লেন্স রয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আইফোন ৭-এর তুলনায় নতুন আইফোনের ক্যামেরা ফিচার ব্যাপক উন্নত করা হয়েছে। বিশেষ করে অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট বা অন্ধকার ঘরেও ভালো ছবি তোলা যাবে। ৭ মেগাপিক্সেল ট্রু-ডেপথ ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরার সাহায্যে পোর্ট্রেট মোডে সেলফি তোলা যাবে আরো নিখুঁতভাবে।