আমদানি শুল্ক সংকুচিত করবে মার্কিন অর্থনীতি



গাড়ির ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা জেনারেল মোটরস (জিএম)। একই সঙ্গে আমদানি শুল্কের কারণে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন গাড়ির উপস্থিতি হ্রাস পাবে বলে মনে করছে কোম্পানিটি।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে গাড়ি কোম্পানিটি জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আমদানি শুল্ক আরোপ করছেন, তাতে জিএম আরো ছোটো কোম্পানিতে রূপান্তরিত হবে, তেমনি মার্কিন কর্মসংস্থান না বেড়ে সেখানে আরো ঝুঁকি তৈরি হবে। জিএম জানায়, শুল্কের ফলে গাড়ির দাম বাড়বে ও বিক্রি কমবে। গাড়ি কোম্পানিগুলো যদি উচ্চতর ব্যয় গ্রাহকদের ঘাড়ে নাও ফেলে, তার পরও এর প্রভাবে বিনিয়োগ ও আমাদের কর্মীদের মজুরি কমবে এবং কর্মসংস্থানে স্বল্পতা দেখা যাবে। আমদানিকৃত গাড়ির ওপর চলমান এক তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ কথা জানিয়েছে জিএম।
স্বল্প বিনিয়োগ ও ক্ষুদ্র কর্মশক্তি মার্কিন গাড়ি শিল্পের যুগান্তকারী প্রযুক্তিকে পিছিয়ে নিতে পারে বলে মনে করছে জিএম। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের শুল্ক নীতি নিয়ে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় গাড়ি কোম্পানি হিসেবে এর বিপদ সম্পর্কে সচেতন করল জিএম।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের আইকনিক মোটরসাইকেল নির্মাতা হার্লে-ডেভিডসন এক ঘোষণায় জানায়, কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোটরসাইকেল উৎপাদন ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) নিজেদের আন্তর্জাতিক কারখানায় স্থানান্তর করবে। ইইউর সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক শুল্ক এড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে হার্লে-ডেভিডসন।
হার্লে-ডেভিডসনের প্রাক্কলিত হিসাব অনুসারে, ইইউ পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে কোম্পানির বছরে ৯ কোটি ডলার থেকে ১০ কোটি ডলার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্প আমদানিকৃত গাড়ির ওপর একটি তদন্ত শুরু করেন। একই সঙ্গে গাড়ি আমদানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি। চলতি মাসের শেষে বা আগস্টে গাড়ি আমদানির তদন্ত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্য আমদানির ওপর আরোপিত শুল্কের পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করা হতে পারে তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ইইউ।
যুক্তরাষ্ট্রে জিএমের পরিচালনায় ৪৭টি ম্যানুফ্যাকচারিং ও ২৫টি যন্ত্রাংশ কারখানা রয়েছে। সারা দেশে ১ লাখ ১০ হাজার কর্মী রয়েছে মার্কিন গাড়ি জায়ান্টটির। প্রতি বছর মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার মূল্যের যন্ত্রাংশ কিনে থাকে কোম্পানিটি। ২০০৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং কার্যক্রমগুলোতে ২ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করার কথা জানিয়েছে জিএম। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার কথা ব্যক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক আরোপ নিয়ে জিএম জানায়, অস্পষ্ট বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এমন একটি বাণিজ্য পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে অন্যান্য বাজার আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে। এতে কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার জিএমের শেয়ারদর ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৩৯ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়ায়।
জিএমের পাশাপাশি জাপানের গাড়ি কোম্পানি টয়োটা মোটরসও শুক্রবার মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে শুল্কের বিরোধিতা করে তাদের অবস্থান জানিয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, শুল্কারোপ যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং, কর্মসংস্থান, রফতানি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে হুমকির মুখে ফেলবে।
সম্প্রতি অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যে মাজদার সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগে ১৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে টয়োটা। এ বিষয়ে কোম্পানিটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ নিয়ে ট্রাম্প বহুবার জাপানি কোম্পানিটির প্রশংসা করেছেন। এ বিনিয়োগ মার্কিন অর্থনীতি এবং প্রশাসনের কর কর্তনের উদ্যোগের প্রতি আমাদের আস্থার প্রতিফলন।
গাড়ি কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি কানসাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ কোলিয়ারও গাড়ি আমদানির ওপর শুল্কারোপের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, গাড়ি শিল্পের সুবাদে তার রাজ্য কর রাজস্ব বাবদ ১০০ কোটি ডলার আয় করে থাকে। সে সঙ্গে সম্প্রতি কানসাসের একটি কারখানায় জিএমের ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
কোলিয়ার বলেন, আমি প্রশাসনের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমান ক্ষেত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি বুঝতে পারছি। কিন্তু আমার উদ্বেগ দেশের গাড়ি শিল্পের প্রবৃদ্ধি নিয়ে।