আর কত রক্তে লাল হবে রাজপথ?


paperslife

‘ছেলেরা তো ভালোই করছে। যেই ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি সামলাতে পারে না, সেখানে এই ছেলেগুলো ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনছে।’ পাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠেছে কথাটা। আসলেই তাই।

সাইন্স ল্যাবের মোড়ে সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজের ছাত্ররা অবস্থান নিয়েছে। শাহবাগ মোড়ে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছে দেশের সরকারি-বেসরকারি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ। তাদের দাবি একটাই, এই সড়কের প্রতিটি পথ নিরাপদ করতে হবে। আর কোনো রক্ত যেন না ঝরে।

গতকাল রাজধানী ঢাকার নদ্দা এলাকায় সুপ্রভাত নামক বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালিসের ছাত্র আবরার আহাম্মেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় আবারো সোচ্চার ছাত্র জনতা।

এর আগেও রাস্তায় নেমেছিল ওরা। ওদের হাত ধরেই বড় ধরনের শিক্ষিত সমাজ একটি শিক্ষা পেয়েছিল। তারা চেয়েছিল, এই রাজপথ নিরাপদ করতে। তারা চেয়েছিল, এই পথে আর যেন কোনো রক্ত না ঝরে।

তারা পারেনি। তাদের অতীত আন্দোলন সফল হয়নি। তবে তারা শিক্ষা দিয়ে গিয়েছিল, চাইলেও এই পথ নিরাপদ রাখা সম্ভব। নিয়মকানুনের আওতায় এনে ভুল ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিয়েছিল সেদিন।

আজ আবার রাজপথে নেমে এসেছে সেই ছাত্র সমাজ। যাদের এ সময় ক্লাসরুমে থাকার কথা, তারা গাড়ির লাইসেন্স চেক করছে। লেন গুলো ঠিক রেখে গাড়ি চলা চলে সাহায্য করছে। পথচারীদের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে অনুরোধ করছে।

তাদের দায়টা কিসের? তারা চায় আমরাও যেন একটু নিরাপদে চলাচল করি। আর যেন কেউই অবরারের মত পরিস্থিতিতে না পড়ি। তাদের দায় এখানেই। রাস্তায় বের হলে প্রতি মুহূর্তে মনে ভয়ে থাকতে হয়। এই বুঝি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে।

এই রাস্তায় প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ প্রাণ হারাচ্ছে। বলার কেউ নেই, জবাব দেয়ার কেউ নেই। আর কত রক্তে লাল হলে হুশ ফিরবে? আর কত প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাবে। অবরারের মত ছেলেগুলোই তো ভবিষ্যতের উত্তরসূরি। তাদের এই প্রাণঘাতী পরিস্থিতির জবাব কে দিবে?

প্রশ্নটা সবার। কিন্তু উত্তর? অজানাই থেকে যায়…