ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ২০ ডলার বাড়ার শঙ্কা!


ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ২০ ডলার বাড়ার শঙ্কা!

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক যৌথ সামরিক হামলার জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। প্রখ্যাত জ্বালানি গবেষণা সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জি (Rystad Energy) সতর্ক করে জানিয়েছে,

সোমবার (২ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজার খোলার সাথে সাথেই অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি অন্তত ২০ ডলার পর্যন্ত লাফিয়ে বাড়তে পারে।


হরমুজ প্রণালি স্থবির: সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজার

সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়তেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথটি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ তেল পরিবাহিত হয়। রাইস্ট্যাড এনার্জির তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই রুট দিয়ে বিশ্ববাজারে আসত, যা বর্তমানে পুরোপুরি থমকে আছে।

যদিও মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প কিছু পাইপলাইন বা অবকাঠামো ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে তা সমুদ্রপথের বিশাল ঘাটতি মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সব বিকল্প পথ সচল থাকলেও বিশ্ববাজারে প্রতিদিন অন্তত ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের নিট ঘাটতি থেকে যাবে। এই বিশাল সরবরাহ ঘাটতিই মূলত তেলের দামকে আকাশচুম্বী করার প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করছে।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

রাইস্ট্যাড এনার্জির ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক জর্জ লিওন এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, “সোমবার বাজার খোলার সাথে সাথে আমরা তেলের বাজারে একটি ঐতিহাসিক উল্লম্ফন দেখতে পারি। যদি হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।”

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল জ্বালানি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ফলে বিশ্বজুড়ে পরিবহন খরচ বাড়বে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে নিত্যপণ্যের দাম ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি একটি চরম অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।


এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতির মূল তথ্য:

  • বাজার খোলার পূর্বাভাস: সোমবার ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ২০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

  • চোক পয়েন্ট: হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১.৫ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো, যা এখন অনিশ্চিত।

  • নিট ঘাটতি: বিকল্প পথ ব্যবহারের পরও বাজারে প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের অভাব থাকবে।

  • দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি: সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০-১৫০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা।


ভবিষ্যতের প্রভাব

ইরান-ইসরায়েল এই সম্মুখ যুদ্ধ কেবল আঞ্চলিক অস্থিরতা নয়, বরং একটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সূচনা করতে যাচ্ছে। যদি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কূটনৈতিক পথে কোনো সমঝোতা না আসে, তবে বিশ্ববাজার এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, যারা মূলত আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বাজেটের ওপর এই পরিস্থিতি বিশাল চাপ তৈরি করবে।