করোনামুক্ত দেশের সর্বপ্রথম লকডাউন উপজেলা


madaripur#paperslife

গত ১৯ মার্চ রাত থেকে দেশের প্রথম নিয়ন্ত্রিত এলাকা ঘোষণা করা হয় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে। করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৫ এপ্রিল থেকে পুরো শিবচর উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন।

দেশের মাদারীপুর শিবচর উপজেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ১৪ মার্চ। এর পর সাত দিনের মধ্যে রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ জন। সর্বমোট ২৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয় শিবচর উপজেলায়। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বশেষ একজন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে করোনা রোগী সকলেই এখন সুস্থ।

চলতি মাসের ৬ তারিখের পর নতুন কোনও করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি এ উপজেলায়। তবে করোনার সংক্রমণ এই উপজেলায় কমে এলেও মানুষের মধ্যে এখনও আতঙ্ক রয়েছে। বাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না হলে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে মনে করছে সচেতন মহল।

জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলায় করোনা আক্রান্ত ২৪ জনের মধ্যে মারা গেছেন দুজন। একজন স্থানীয় ও অপরজন ঢাকাফেরত।

দ্বিতীয় দফায় ১ এপ্রিল থেকে ১২ দিনে শনাক্ত হয় আরও ১১ জন। সবশেষ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকাফেরত একই পরিবারের চারজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

অপরদিকে চলতি মাসের ১০ তারিখের পরে এক সপ্তাহে শিবচরে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হন পাঁচজন। এর মধ্যে এক নারী চিকিৎসক ও তারসাত বছর বয়সী এক মেয়েও রয়েছে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় শিবচর উপজেলার আলেপুর এলাকার শহিদুল হাওলাদার (৩৮) নামে এক ঢাকাফেরত যুবককে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এর মাধ্যমেই এখন করোনামুক্ত হল শিবচর উপজেলা।

জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সারাদেশে যখন ১৮ জন করোনা রোগী ছিল তখন শিবচরেই ছিল ১০ জন। সেই পরিস্থিতি থেকে শিবচর এখন করোনা রোগীমুক্ত। এই সাফল্যের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী মডেল।

তার সার্বিক নজরদারি ও নির্দেশনা অনুসারে খাবার সহায়তা প্রদানসহ স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনকি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ তৎপরতা চালিয়েছেন। তবে শিবচর উপজেলা এখনও ঝুঁকি মুক্ত নয়। শিবচরবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, জেলার মধ্যে শিবচর উপজেলায় করোনা পরিস্থিতি ভালো। নতুন সংক্রমণ এখন নেই। ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসধীন এক যুবককে সদর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন এই উপজেলায় আক্রান্ত ২৪ জনের ২২ জনই সুস্থ হয়ে  বাড়িতে আছেন, মারা গেছেন দুজন। শিবচরে আর কেউ চিকিৎসাধীন নেই। তবে শিবচরে এখনও ঝুঁকি আছে। আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীসহ সবাই  দিনরাত কাজ করছেন।