চলতি বছর এশিয়ার প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশ



চলতি বছর উন্নয়নশীল এশিয়ার প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। আঞ্চলিক এ উন্নয়ন ব্যাংকটি জানিয়েছে, চলতি বছর এশিয়ার অর্থনীতিতে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে চলমান উত্তেজনার কারণে কিছু ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এডিবি।
বুধবার প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে এডিবি পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছর এশিয়ায় ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। পূর্ববর্তী পূর্বাভাসে যা ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৯ সালে অর্থাৎ আগামী বছর এ অঞ্চলে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছে এডিবি।
বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশ এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালক চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই প্রবৃদ্ধি নিয়ে এ পূর্বাভাস দিল এডিবি। মার্চের শুরুতে নিজের সুরক্ষাবাদ নীতি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’র অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পর থেকেই হাজার হাজার কোটি ডলার মূল্যমানের পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টিভাবে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন। দুই দেশ এ অবস্থান নেয়ার পর পুরো বিশ্বে বাণিজ্যযুদ্ধের উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়াসুইউকি সাওয়াদা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বেশ দৃঢ় ছিল, ঝুঁকিও নিম্নমুখী ছিল। তবে রক্ষণবাদ পদক্ষেপ ও এর বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপে বাণিজ্যে সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।’
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর আমদানি ও রফতানিতে ‘স্পষ্টভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি’ করেনি। তবে এ-সম্পর্কিত আরো পদক্ষেপ ও পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে ব্যবসায়িক আস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সুদের হার বাড়ালে এ অঞ্চলে পুঁজিপ্রবাহ কমে যাওয়ারও ঝুঁকি সৃষ্টি হবে।
এডিবি জানিয়েছে, চীনের প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে চলতি বছর ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগামী বছর ৬ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়াবে। ‘আরো আর্থিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে’ বলে ধারণা করছে এডিবি। বিপুল ঋণ ও দূষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সত্ত্বেও বিশ্বের এ জায়ান্ট অর্থনীতির দেশটি গত বছর ৬ দশমিক ৯ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছিল। সে সময় দেশটির কর্তৃপক্ষ রফতানি ও বিনিয়োগের পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয়কে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রূপান্তরের চেষ্টায় ছিল।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ গত বছরের ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে অথবা বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা সত্ত্বেও রফতানি প্রবৃদ্ধি সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে এমন অনুমান করছে ব্যাংকটি। ব্যাংক খাতের সংস্কার ও কর ব্যবস্থা সংস্কারের সুবাদে উৎপাদনশীলতা বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর ভারতের অর্থনীতি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ সম্প্রসারণ হবে বলে ধারণা করছে এডিবি। এশীয় অঞ্চলের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়াই সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণ হবে।