বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারণে চীনে জ্বালানির চাহিদা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। বাড়তি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার বড় একটা অংশ আমদানিকৃত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মাধ্যমে পূরণ করে বেইজিং। ফলে প্রতি বছরই দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বাড়ছে।
এ ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে জ্বালানি পণ্যটির আমদানিতে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় একক দেশ হিসেবে শীর্ষে পৌঁছে গেছে।
ইআইএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে চীন সবমিলে দৈনিক গড়ে ৮৪ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটি আমদানির সর্বোচ্চ পরিমাণ। এর আগে ২০০৫ সালে চীনে দৈনিক গড়ে ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল। ২০১০ সাল নাগাদ দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় আমদানি ৪০ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে যায়। ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সাত বছরে চীনের বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
এদিকে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সবমিলে দৈনিক গড়ে ৭৯ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ইআইএ। চলতি শতকের শুরু থেকে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানিতে মন্দাভাব বজায় রয়েছে। তবে ২০১৬ ও ১৭ সালে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ১ লাখ ৯ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল। এর পর থেকে চলমান মন্দাভাবের জেরে ২০১০ সালে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় আমদানি ৯০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে আসে।
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় আমদানি আরো কমে ৭৫ লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি অবস্থান নেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ক্রমশ কমলেও পণ্যটির বৈশ্বিক আমদানিকারকদের তালিকায় দেশটি দীর্ঘদিন শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছিল। ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনে দৈনিক গড়ে পাঁচ লাখ ব্যারেল অতিরিক্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে। সে হিসাবে বছর শেষে প্রথমবারের মতো জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক আমদানিকারকদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে চীন। একই সঙ্গে তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি।
২০১৭ সালে চীনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি বৃদ্ধির পেছনে প্রতিবেদনে দুটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত. বাড়তি জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিশীলতার জের ধরে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিপরীতে দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমে আসা। দ্বিতীয়ত. এ সময় চীনে উত্তোলন কমলেও জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বেড়েছে। এ কারণে বছরজুড়ে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানিতে তেজিভাব বজায় ছিল। কয়েক বছর ধরে চীনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন খাতে মন্দাভাব বজায় রয়েছে।
প্রতি বছরই দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন ২ শতাংশ হারে কমছে। তবে গত বছর এর পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ইআইএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশটিতে সবমিলে ১৯ কোটি ১৫ লাখ ১০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হয়েছে। দৈনিক হিসেবে যার গড় দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে। এ সময় দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন নয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। এর বিপরীতে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির পরিশোধন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেলে, যা আগের বছরের তুলনায় দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেল বেশি।
