তবে কি অন্যায়ের সমর্থক নেইমার?



সমালোচনার ঝড় বইছে। ফুটবল পাড়ায় ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছেন ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে ইসরায়েল সফরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ব্রাজিলসহ পুরো ইন্টারনেট দুনিয়ায় তাকে নিয়ে এই সমালোচনার সূত্রপাত।

গত সোমবার ইসরাইলে সফররত ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো-এর সাথে জুরিজালেমের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র দেয়ালে (ওয়েস্টার্ন ওয়াল) প্রার্থনায় অংশ নেন নেতানিয়াহু।

শেষে এক ভিডিও বার্তায় দুই নেতা নেইমার ও দু’বারের সার্ফিং চ্যাম্পিয়ন গ্যাব্রিয়েল মেদিনাকে ইসরায়েল সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। ভিডিও বার্তায় তাঁরা বলেন, ‘প্লিজ ইসরায়েলে আসো। নেইমার ও মেদিনা, তোমরা দুজনেই আমন্ত্রিত। সবাইকে নিয়ে ইসরায়েলে ঘুরে যাও। জেরুজালেম তোমাদের অপেক্ষায় আছে।’

এর ঠিক একদিন পরেই এক ভিডিও বার্তায় দুই নেতার আমন্ত্রণ গ্রহণ করে শিগগিরই ইসরায়েল ভ্রমণে যাওয়ার কথা জানান নেইমার। বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই ফুটবলারের এই সিদ্ধান্তে চটেছেন তার ভক্তরা।

সমর্থক শুরু করে ব্রাজিলের অনেক বড় বড় রাজনীতিবিদদের সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হন নেইমার। সাবেক ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট দিলমা রোসেফ বলেন, ‘যখন ব্রুনা (নেইমারের সাবেক বান্ধবী ব্রুনা মারকেজ) আফ্রিকা সফর করে টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের পাশে দাঁড়াচ্ছ, সেখানে নেইমার বোলসোনারো, এমন একজন প্রধানমন্ত্রী যিনি কিনা দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত আর আরেকজন (নেতানিয়াহু) যার সৈন্যরা ফিলিস্তিনের শিশুদের গুলি করছে তাদের কাছ থেকে আমন্ত্রণ পাচ্ছে। সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় ব্রুনা কিছুই হারায়নি, বরং সে নিজেকে মুক্ত করেছে।’

গত বিশ্বকাপের আগে এক প্রীতি ম্যাচ খেলতে ইসরায়েল যাওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল। দলের। কিন্তু সমালোচনার মুখে সেই ম্যাচ বাতিল করে মেসিরা। এজন্য ইসরায়েল ক্ষুব্ধ হলেও সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছিলেন তারা। প্রতিবেশী দেশ থেকে শিক্ষা না নিয়ে, ইজরাইল ঘুরে আসতে চাওয়া অনেকটা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার সামিল বলে মনে করেন অনেকে।

টুইটারে একজন লিখেছেন, ‘নেইমারের কোনো ধারণাই নেই তিনি কি করতে চলেছেন। তিনি এমন একজন ইসরায়েলপন্থী ব্যক্তিকে (ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট) সমর্থন করছেন যিনি একজন দুর্নীতিবাজ ও খুনি নেতানিয়াহুর পক্ষে কাজ করছেন।’

আরেকজনের বক্তব্য, ‘নেইমার আর মেদিনা শেষ পর্যন্ত অন্যায়ের সমর্থক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন।’