তিথি রায় পূজার গল্প “প্রিয়তমেষু – দ্বিতীয় অধ্যায়”


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

প্রিয়তমেষু,
“আমি তোমার জীবনের অপশনাল নয়, শেষ প্রেয়সী হতে চাই।
তোমার পবিত্র প্রেমের শুদ্ধ প্রেমিকা নয়, জীবনের শেষ ভালোবাসা হতে চাই”….

স্ট্যাটাস টা দিয়ে ডায়েরী নিয়ে বসলো মৃদুলা। নাহ্ আজ আর ডায়েরী লিখতে ইচ্ছে করছেনা। বরং ডায়েরী সরিয়ে আবার ফোন টা টেনে নিলো কাছে। কি মনে হতেই নিজের টাইম লাইনে অনেক আগের পুরনো স্ট্যাটাস গুলো স্ক্রল করতে থাকলো। যখন মাত্র মাত্র নির্জনের সাথে তার প্রেম হয়েছে। আহা, কি স্বপ্নময় সেই দিনগুলো….

প্রিয়তমেষু,
জ্যৈষ্ঠ মাস ইজ রানিং, ইউ নো। সামনেই জামাই ষষ্ঠী। আর কতকাল চোখের আড়ালে আড়ালে থাকবে?আর কত্ত বছর তোমার শ্বশুর, শাশুড়িকে ষষ্ঠীতে জামাই বরন করা থেকে বঞ্চিত করবে? তাড়াতাড়ি দৃশ্যমান হও হে প্রিয়নাথ। এই দেখো, তোমার জন্য মালা অলরেডি কিনেও রেখেছি, শুধু তোমার গলাটা কাছে পাবার অপেক্ষায়!!

প্রিয়তমেষু,
তুমি কি জানো?
“মেয়েটি একসময় ছিলো, ছেলেটির লেখনীর মুগ্ধ পাঠিকা।
আর এখন হয়েছে বিরক্ত শ্রোতা”….

প্রিয়তমেষু,
তুমি যদি হও “কুম্ভকর্ণ” তবে আমি “কুম্ভনাশিকা”।
(পোলাপান কি হবে গড নোজ )
গুড মর্নিং…….

প্রিয়তমেষু,
“আমি তোমার মন চাইনা,
শুধু তোমার ফোন (কল) চাই”, হিহিহিহি….

প্রিয়তমেষু,
এইযে আমি বাসায় প্রতিদিন মায়ের থেকে রান্নার ট্রেনিং নিচ্ছি, তাই বলে তুমি ভেবোনা, বিয়ের পর আমি রেগুলার তোমায় রেঁধে-রেঁধে খাওয়াবো। ফ্রাইডে দুপুরে লাঞ্চ প্রিপেয়ার এবং রাতে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে নিয়ে যাবার দায়িত্ব তোমার। নইলে সপ্তাহের বাকি ছয়দিনও তোমাকে ডায়েটের উপড়ে রেখে দিবো, হুহ্….

প্রিয়তমেষু,
প্রতিদিন ব্যালকনিতে তাকিয়ে ভাবি,”কবে তুমি ফোন দিয়ে বলবে,তাড়াতাড়ি নামো তো,নীচে ওয়েট করছি তোমার জন্য….

প্রিয়তমেষু,
“বি.এম.ডব্লিউ” বা “মার্সিডিজে” আমায় লং ড্রাইভে নিয়ে যেতে হবেনা, শুধু গোধূলি লগ্নে “হাত ধরে রিক্সায় ঘুরতে নিয়ে যেও” তাতেই চলবে….

প্রিয়তমেষু,
শুনেছি মানুষের চোখ কখনো মিথ্যা বলেনা। তবে আমায় “ভালোবাসি” বলার সময় তোমার ওই “বেরসিক সানগ্লাস” টা খুলে রেখো প্লিজ….

প্রিয়তমেষু,
“সূর্যাস্ত” আর “সূর্যোদয়ের” দৃশ্য যে একই রকম হয় জানো?
আমার জীবনে কোনো সূর্যোদয় নেই, সব “সূর্যাস্ত”। ইনফিউচার এক সাথে রাত জেগে আমরা “সূর্যোদয়” দেখবো, ঠিক আছে ??

প্রিয়তমেষু,
তোমার দুশ্চিন্তায় যে আমার ফ্রেশ মুখে কতোগুলো পিম্পলস উঠেছে ,তুমি জানো?

প্রিয়তমেষু,
বি কেয়ারফুল ……
“তরুণকে খুন করে তরুণীর আত্মহত্যা” হেড লাইন টা কিন্তু জোশ লেগেছে, হিহিহিহি….

খুব সুন্দর সময় ছিলো সেগুলো। ধীরে ধীরে সময়গুলো ফিকে হতে থাকে। রোমান্টিক স্ট্যাটাস গুলো স্যাড স্ট্যাটাসে পরিণত হতে থাকে…..

প্রিয়তমেষু,
আগে শুনতাম প্রেমে পরলে মেয়েরা সুন্দরী হয়ে যায়।
কিন্তু এখন তো দেখছি, প্রেমে পরলে মেয়েরা “কান্নাবতী & ধৈর্যবতী” হয়ে যায়….

প্রিয়তমেষু,
সময় কেন এত্তটা বদলে যায়?
“ছেলেটা প্রতিদিন একবার করে আড়াই মিনিটের জন্য মেয়েটাকে ফোন দিয়ে হাজিরা সই করে প্রেমিকের দায়িত্ব পালন করে!
আর মেয়েটা কাঁদোকাঁদো স্বরে,”তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসোনা ” বলে কোর্স ফিল আপ করে….

প্রিয়তমেষু,
“ইমোশনাল ব্লাকমেইলিং তো তাকেই করা যায়,যার ইমোশন আছে।
তার মুখে “ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল” কথাটা মোটেই মানায় না যার মিনিমাম ইমোশনই নেই…..”

প্রিয়তমেষু,
“তুমি নিজেও তোমার কথা ততোটা ভাবোনা,যতোটা আমি ভাবি”….

তিথি রায় পূজার গল্প “প্রিয়তমেষু”

এই পর্যন্ত এসে ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ করে রাখলো মৃদুলা। আর কিছু ভাবতে পারছে না। ভাবনাতে কেবল নির্জনের আনাগোনা। এমন ভাবনা তো চায় না মৃদুলা। চায়, সব ভুলে ভালো থাকতে। কিন্তু মৃদুলার নির্জনতার রাজ্যে বারবার এসে হানা দেয় নির্জনের ভাবনা। এখনো যে মৃদুলা তাকে ঠিক ততোটাই ভালোবাসে যতোটা ভালোবাসতো কিছুদিন আগেও।

নির্জন কি আসলেই বোঝে এসব? নাকি কখনো কিছু বোঝেইনি? কোনো কারণ ছাড়া এই বিভেদের পরও কেনো এখনো মৃদুলাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করে? কেনো প্রতিটা পরীক্ষার আগের দিন রাতে মেসেজ দিয়ে উইশ করে? কেনো অসুস্থতায় খবর নেয়? ও কি তবে আড়াল থেকে সব খোঁজ রাখে মৃদুলার?

তাই যদি হয়, তবে কেনো এই বিভেদের দেয়াল? মৃদুলা কিছুই বোঝেনা নির্জনের। ও চায় নির্জন কে ঘৃণা করতে, তাহলে হয়তো ভুলতে পারবে। ভুলতে পারবে অতীতের সব স্মৃতিগুলো। নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে, বাঁচার মতো বেঁচে থাকার জন্য ভুলে থাকা জরুরি। কিন্তু পারে না মৃদুলা। যাকে ভালোবাসা যায়, তাকে কি করে ঘৃণা করা যায়? তাকে তো কেবল মনের কোনে ঠিক গোপনে পরম যত্নে রেখে দেওয়া যায়। মানুষ এতটা পাষাণ কি করে হতে পারে মৃদুলা বোঝেনা। ও তো নিজেকে অনেকটাই বদলে ফেলেছিলো নির্জনের জন্য। ছেলেটা জীবন থেকে চলে গেলো তার সব সুখ আর ভালো থাকা গুলো নিয়ে। মৃদুলাকে পাকাপাকি ভাবে নির্জনবিহীন নির্জনতার মাঝে একা করে দিয়ে গেলো।

ওদিকে তো দিব্যি আছে নির্জন। গত শুক্রবারেও বন্ধুদের সাথে মাওয়া গিয়ে কতো মজা করে এলো। ফেসবুক ভর্তি কতো ছবি পোস্ট করলো। অথচ টানা অনলাইনে থাকলেও সহজে রিপ্লাই করেনা মৃদুলাকে। আবার ফেসবুক বা ম্যাসেঞ্জার থেকে ব্লক ও দেয়না। অনেক অনেক দিন পর কোনো একটা মাঝরাতে হয়তো রিপ্লাই করে।

তিথি রায় পূজার গল্প “সিভিয়ার ক্রাশ”

ভীষণ ঘুমকাতুরে ছেলে নির্জন। কিন্তু ওই সময়ে কিকরে রিপ্লাই করে সেটা ভেবে পায়না মৃদুলা। পরক্ষনেই মনে পরে, হয়তো হুট করে ঘুম ভেঙে যায়, মশার কামড়েই হয়ত! প্রায়শই গুড নাইট জ্বালাতে ভুলে যেতো নির্জন। আর ফোন দিয়ে মনে করিয়ে দিতো মৃদুলা। এখন তো আর তাদের রেগুলার কথা হয়না, তাই মনে করানোরও কেউ নেই। আর মশারি টানানোতে নির্জনের ছিলো চরম এ্যলার্জী। তাই আগে বলতো, বিয়ের পর যেনো প্রতিদিন মৃদুলা মশারি টানায়, সে এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেনা। এভাবেই মাঝরাতে হুট করে ঘুম ভেঙে গেলে তখন রিপ্লাই করে আবার ঘুমিয়ে পরে বোধহয়।

মৃদুলার মতে – “পৃথিবীতে তারাই সবথেকে বেশি সুখী, যারা চাইলেই যখন তখন যেখানে সেখানে ঘুমিয়ে যেতে পারে।”

সে হিসাবে নির্জন পৃথিবীর সেরা সুখী মানুষ। আর আসলেই তো নির্জন অনেক সুখী। যখন যা চায়, তাই পায়। মৃদুলাকে চেয়েছিলো, পেয়েওছিলো। যখন মৃদুলাকে বাদ দিতে মনে চেয়েছে তাই করেছে। নির্জন আসলেই ভাগ্যবান।

আর দশটা সাধারণ সম্পর্কের মতো তাদের প্রেম ছিলোনা। আবার তাদের মাঝে গড়ে ওঠা বিচ্ছেদের দেয়ালও অন্যদের সাথে পুরোপুরি মেলেনা। সে তো খুব সাধারণ একটা মেয়ে। তবে সব অসাধারণ ঘটনাগুলো তার জীবনের সাথেই কেনো বারবার ঘটছে!

এক জীবনের সব হিসাব মানুষ মেলাতে পারেনা। মৃদুলাও তাই নির্জনের কোনো সমীকরণই মেলাতে পারেনা……..

তিথি রায় পূজার গল্প “;প্রথম দেখার গল্প”

পেপার’স লাইফ/গল্প/তিথি রায় পূজা

তিথি রায় পূজার গল্প “খুনসুটি”

তিথি রায় পূজার গল্প “জন্মদিন”