তুলির আঁচড়ে ২৫শে মার্চ, কালরাত্রি



২৫ শে মার্চ, ১৯৭১। এ এক ভয়াল রাত। একটি দেশের গড়ে ওঠার ইতিহাস। একটি পরাধীন জাতির লড়াই করার শুরু। পাকিস্তানের বর্বরতা যেখানে এক কালো রাতের ধ্বংসযজ্ঞে মেতেছে, একটি দেশে সেখানে আলোর পথে এগিয়েছে। সবুজের বুকে, লাল সূর্য।
সেদিন যাদের আহাজারিতে ভারী হয়েছিল বাংলার আকাশ-বাতাস, তাদের সেই রক্ত বৃথা যায়নি। সেই রক্তের ঋণ হয়ত কোনদিনও শোধ করা যাবে না। আর তাইতো তাদের স্মরণে আজো নানা আয়োজন চলে।

সেই আয়োজনে শরিক হয় অনেকেই। বাদ যায় না বাংলাদেশের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা)। তাদের আয়োজনটা আরো বিশাল। উপমহাদেশের দীর্ঘ পথচিত্র এঁকে গড়েছে ইতিহাস।
প্রতি বছরই ২৫ শে মার্চ কালরাত্রি স্মরণে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে, সংসদ ভবনের সামনে রাতভর চলে আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ একের পর এক পথচিত্র এঁকে যায়।

এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে এবারো পথচিত্রাঙ্কনের আয়োজন করা হয়। যেখানে একাত্মতা প্রকাশ করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও স্কুল অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (সোডা), কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (কোডা) এর শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন।

তাদের সাথে এক হয়ে অয়োজন সফল করার পূর্ণ প্রচেষ্টা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। এ যেন এক মিলন মেলা। শুধু সে প্রতিষ্ঠানের নয়, সর্বস্তরের মানুষের সাথেই এ এক মিল বন্ধন। একাত্তরের সে ভয়াল কালরাত্রি সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে জানানোর এক ছোট্ট প্রয়াস। যা জানা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য খুবই জরুরি।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়। তাছাড়া, এক মিনিটের জন্য মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয়। এ সময় পুরো এলাকার বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বর্তমান প্রজন্ম হয়ত অনেকেই জানেনা আমাদের ইতিহাস। কত ত্যাগ, কত রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এ দেশ। এদেশের আলো, বাতাসে আজো মিশে থাকে শহীদদের রক্ত। সেইসব তরুণ প্রজন্ম যেন কোনো ভ্রান্ত ধারণা পোষন না করে রাখে, আমাদের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারে – সে জন্যই এমন আয়োজন ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এভাবেই জাতির কাছে পৌঁছে যাবে আমাদের রক্তাক্ত ইতিহাস।