বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবিতে সরকারের সাড়া না পেয়ে নিজেরাই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এরই মধ্যে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বেশ কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধের জন্য নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। গতকাল দুপুরে ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ ঘোষণা বা গ্রীষ্মকালীন ছুটি এগিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে ডাকসু।
শিক্ষক সমিতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ জরুরি সভা ডেকেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সকাল ১০টায় পুরনো সিনেট ভবনে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, চিফ মেডিকেল অফিসারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রত্যেক বিভাগের শ্রেণী প্রতিনিধিরা (সিআর) গত শুক্রবার রাতে এ সিদ্ধান্ত নেন। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের এ সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যাননি। তবে ক্লাস বর্জন অব্যাহত রাখবেন কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি এখনো।
বুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বেশির ভাগ বিভাগেই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসেনি। তবে ঠিক কী কারণে ক্লাসে আসেনি, সেটা বলতে পারব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। রেওয়াজ আছে প্রতিযোগিতার পরদিন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসে না। এবারো কি সেটা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কারণে না করোনার আতঙ্কে, সেটা পরবর্তী ক্লাসের দিন উপস্থিতির হার দেখে বোঝা যাবে।’
করোনাভাইরাস আতঙ্কে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সব অনুষদের শিক্ষার্থীরা। অনুষদীয় ছাত্র সমিতির নেতারা গণস্বাক্ষর নিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে সরকারের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন উপাচার্য লুত্ফুল হাসান।
করোনাভাইরাস আতঙ্কে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। করোনার প্রাদুর্ভাব স্বাভাবিক অবস্থায় না আসা পর্যন্ত এ ঘোষণা কার্যকর থাকবে বলে জানান তারা। গতকাল বিকাল ৫টায় শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন। এর আগে বেলা ২টায় সব বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধিরা একত্রিত হন। সেখানে দীর্ঘ আলোচনার পর তারা এ সিদ্ধান্ত নেন।
১৮ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে বলে গতকাল ঘোষণা দিয়েছে রাজধানীর স্কলাস্টিকা স্কুল। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে পাঠানো ই-মেইলে এ ছুটিকে বসন্তকালীন ছুটি হিসেবে উল্লেখ করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। গতকাল বিকালে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. নিজামূল হক ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

