পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর: শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা



পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর! বিডিআর সদরদপ্তর পিলখানায় বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা সদস্যদের স্মরণে আজ বুধবার সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তাঁরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

শোকার্ত পরিবেশে বিনম্র শ্রদ্ধা

আজ বুধবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পিলখানা ট্র্যাজেডির সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করে দেশ আজ আরও একবার শোকাতুর। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রপতির পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল শহীদদের সম্মানে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং সামরিক কায়দায় স্যালুট জানায়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা পিলখানা হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতে শরিক হন।

উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ

স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়াও বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিন বাহিনীর প্রধানগণ নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি আলাদাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

অনুষ্ঠানে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রতি বছরের মতো এবারও স্বজন হারানোর বেদনায় অনেকের চোখ ছিল সজল। পিলখানার সেই রক্তাক্ত ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ক্ষত যে আজও শুকায়নি, বনানীর এই শোকাতুর পরিবেশই তার সাক্ষ্য দিচ্ছিল।

স্মৃতির আয়নায় সেই কালো দিন

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সেই দুই দিনে পিলখানায় যা ঘটেছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদরদপ্তরে বিপথগামী কিছু সদস্যের হাতে অত্যন্ত নির্মমভাবে প্রাণ হারান ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী এই কর্মকর্তাদের হারিয়ে সেনাবাহিনী তথা গোটা জাতি এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বনানী সামরিক কবরস্থানের এই সবুজ ঘাসের নিচে শুয়ে থাকা প্রতিটি কবরের নামফলক আজও সেই বীরদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

ন্যায়বিচার ও আগামীর ভাবনা

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চললেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার নিয়ে আকাঙ্ক্ষা রয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি শহীদদের ত্যাগের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের কুশীলবদের পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব হবে। আজকের এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানটি জাতি হিসেবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার নতুন বার্তা দেয়।