করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকে দেশজুড়ে বেড়েছে মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই)এর চাহিদা বেড়ে গেছে। যার ফলে প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে মেডিকেল বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। তবে করোনার এই সময়ে যেভাবে মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস যেভাবে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে, তাতে করোনার সংক্রমণ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার এই সময়ে মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝূঁকি তৈরি করেছে। ঢাকার প্রতিটা বাড়িতে এই ধরনের বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। আবার হাসপাতালে এই ধরনের বর্জ্য বেড়ে গেছে। এসব বর্জ্য যদি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করা হয়, তাহলে এর পরিণতি খারাপ হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর বদরুল আমিন বলেন, ‘করোনার সময়ে ঢাকা মহানগরের মানুষ মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহার করছে। হাসপাতালের মেডিকেল বর্জ্যগুলো আলাদাভাবে নিয়ে তা পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা মাস্কসহ অন্যান্য বর্জ্য করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছে। এগুলো জীবাণুমুক্ত না করে সাধারণ বর্জ্যরে সঙ্গে ফেলে দেওয়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অনেকের করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ঢাকা মহানগরের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত চারজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, করোনার কারণে মেডিকেল বর্জ্যরে ধরন আগের থেকে বদলে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৪ টন মেডিকেল বর্জ্য তৈরি হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ থেকে ৪ টনে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, মেডিকেল বর্জ্যগুলো অটোক্লেভস মেশিনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে তা বায়োহ্যাজার্ড ব্যাগে ভরে রাখার কথা। তবে দু-একটি হাসপাতাল ছাড়া কেউই মেডিকেল বর্জ্যগুলো জীবাণুমুক্ত করে বায়োসেফটিক্যাল ব্যাগে ভরে রাখছে না। অনেক হাসপাতাল মেডিকেল বর্জ্যগুলো হাসপাতালের সামনে স্তূপ করে রাখছে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের পূর্বে আগের মেডিকেল বর্জ্যে সংক্রামক ব্যধি ছড়ানোর ঝুঁকি ছিল না বললেই চলে। আর এখনকার প্রতিটা মেডিকেল বর্জ্যের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। দু-একটি হাসপাতাল ছাড়া কেউই নিয়ম মেনে মেডিকেল বর্জ্যগুলো অটোক্লেভ মেশিনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে বায়োসেফটিক্যাল ব্যাগে ভরে রাখে না।’
করোনাকালে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘আগে থেকে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমাদের ত্রুটি ছিল। আর এই সময়ে যদি কোনো হাসপাতাল মেডিকেল বর্জ্যগুলো হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে দেয়, সেটি অন্যায়। করোনার সংক্রমণের ঝূঁকি তৈরি করবে।’
এদিকে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের একটি বিরাট অংশ বাসায় বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এঅবস্থায় ওই রোগীর ব্যবহৃত মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না করার সেখান থেকেও রয়েছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।

