স্বর্ণের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মূল্যবান ধাতুটির দাম কমতে কমতে চলতি বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারাচ্ছে এই ধাতুটি।
সর্বশেষ কার্যদিবসে স্বর্ণের দাম কিছুটা বাড়লেও আশা জাগাতে পারছে না বিনিয়োগকারীদের মনে। আগামী দিনগুলোয় আরো দরপতনের আশঙ্কায় স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগ বাড়ছে না।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভবিষ্যতে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম আগের দিনের তুলনায় ৩ ডলার ৮০ সেন্ট কমে ১ হাজার ২৫৬ ডলার ১০ সেন্টে নেমে আসে। চলতি বছর এটাই ভবিষ্যতে সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের সর্বনিম্ন দাম। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ১ হাজার ২৪৫ ডলার ৩ সেন্টে বিক্রি হয়। ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বরের পর এটাই স্বর্ণের সর্বনিম্ন স্পটমূল্য। সর্বশেষ কার্যদিবসে মূল্যবান ধাতুটির বাজার পরিস্থিতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এদিন স্পট মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটি আউন্সপ্রতি ১ হাজার ২৫০ ডলার ৯০ সেন্টে বেচাকেনা হয়। অন্যদিকে ভবিষ্যতে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হয় ১ হাজার ২৫২ ডলার ৫০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ফিরলেও স্বস্তি ফিরেনি বিনিয়োগকারীদের মনে। এ বিষয়ে মেলবোর্নভিত্তিক অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড ব্যাংকের এশিয়া রিসার্চের প্রধান কুন গো বলেন, দিন দিন ডলারের বিনিময় মূল্য বাড়ছে। ডলারের ক্রমবর্ধমান এ শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। মূল্যবান ধাতুটির দামে বিদ্যমান মন্দাভাব বিনিয়োগকারীদেরকে স্বর্ণের প্রতি আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক বার্কলেসের এক নোটে বলা হয়, আগামী দিনগুলোয় স্বর্ণের অবস্থান আরো শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনটা হলে বিশ্বব্যাপী ডলারে বিনিয়োগ বাড়বে। ফলে স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগ বর্তমানের তুলনায় কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানো না হলে স্বর্ণের বাজার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
