একটা সময় হাম, ধনুষ্টংকারের মত রোগে দেশে বিপুল পরিমান শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও টিকাদান কর্মসূচীর সফল বাস্তবায়নের পর এ সংখ্যা এখন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। তবে এখন সে জায়গা এখন দখল করছে নানা রকমের দুর্ঘটনা, বিশেষ করে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের তথ্যানুযায়ী ঈদের সময় অর্থাৎ গত ২৯ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত) ১২ দিনে পানিতে ডুবে মারা গেছে ৬৯টি শিশু। এদের মধ্যে ছেলেশিশু ৪২টি এবং মেয়েশিশু ২৭টি।
অবশ্য সব শিশুর মৃত্যু সংবাদ হয় না। বলা হয়, দেশে গড়ে দিনে ৪০ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। জনসংখ্যার অনুপাতে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার বাংলাদেশেই বেশি।
মারা যাওয়া ৬৯টি শিশুর মধ্যে আবার ৩৭ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম। যদিও বলা হয়, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ পানিতে ডোবা আর প্রথম কারণ নিউমোনিয়া। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, সবচেয়ে বেশি শিশু, বিশেষ করে পাঁচ বছরে কম বয়স্ক শিশু মারা যায় পানিতে ডুবে।
২০১৭ সালে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া ৩৬৪ জনের ওপর একটা সমীক্ষা চালিয়ে বেসরকারি সংস্থা দুর্যোগ ফোরাম দেখেছে, এদের মধ্যে ২৪৪ জনই হচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্ক আর মোট মৃত্যুর প্রায় ৫১ শতাংশের (১৮৬ জন) বয়স আট বছরের নিচে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সাঁতার না জানা ডুবন্ত ব্যক্তি সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে বা কথা বলতে পারে না। হাত ওপরে তুলতে পারে না। বড়জোর ২০ থেকে ৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত শুধু শ্বাস নেওয়ার জন্য কোনোমতে মাথাটা ভাসিয়ে রাখতে পারে।
তবে ডুবতে ডুবতে বেঁচে যাওয়া শিশুদের কমবেশি সবাই কোনো না কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার শিকার হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও ডুবন্ত অবস্থায় শিশুর মস্তিষ্কে অক্সিজেন চলাচল বন্ধ থাকলে তার কোনো না কোনো প্রভাব শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে।

