বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক উৎসের মাছে তৃতীয় বাংলাদেশ



প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছ উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। দুই বছর আগে প্রাকৃতিক উৎসের মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম। চীন ও ভারত যথাক্রমে এক ও দুই নম্বরে আছে।

 চাষের ও প্রাকৃতিক উৎসের মাছ মিলিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চতুর্থ। চার বছর ধরে বাংলাদেশ এই অবস্থানটি ধরে রেখেছে। আর শুধু চাষের মাছের হিসাবে বাংলাদেশ পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও-এর ৯ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এবার বড় ধরনের অগ্রগতির পেছনে মূল অবদান ছিল ইলিশের।

এ বিষয়ে  এফএওপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সাতটি দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের অর্ধেকেরও বেশি আসে মাছ থেকে। প্রাণিজ আমিষের ৫৮ শতাংশ মাছ দিয়ে মিটিয়ে শীর্ষস্থানীয় দেশের কাতারে এখন বাংলাদেশ। যেখানে বিশ্বে গড়ে প্রাণিজ আমিষের ২০ শতাংশ আসে মাছ থেকে।

বাংলাদেশের মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী-হাওর-বাঁওড়-বিল ও অন্যান্য উন্মুক্ত জলাশয় থেকে আহরণ করা মাছের উৎপাদনে বাংলাদেশের উন্নতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি। প্রাকৃতিক উৎস থেকে বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ১০ লাখ ৪৮ হাজার টন মাছ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ইলিশ ছিল প্রায় ৫ লাখ টন। জাটকা নিধন বন্ধে নেওয়া সরকারের নানা উদ্যোগ ও ইলিশের নতুন নতুন অভয়ারণ্য সৃষ্টির ফলে তিন বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন প্রায় দেড় লাখ টন বেড়ে গেছে।

এদিকে বাংলাদেশের উপকূলীয় মাছের মজুত নির্ধারণের ব্যাপারে সরকারকে সহযোগিতা দিতে এফএওর একটি দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

এদের দলনেতা এফএওর এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের কর্মকর্তা সুসানা সিয়ার মিষ্টি পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের এই সাফল্যের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ ছাড়া ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সাফল্য এই অবস্থানে আসতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।