পাকিস্তান ও চীনের পর সীমান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল হিমালয় কন্যা নেপাল। ভারতের অভ্যন্তরে থাকা উত্তরাখন্ডের কালাপানি, লিপুলেখ ও লিমপিয়াধুরা অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করেছে দেশটি।
তিনটি ভারত ‘দখল’ করে রেখেছে জানিয়ে তা ফেরাতে নেপালের সংসদে একটি প্রস্তাব পেশ করেছে দেশটির শাসক দল কমিউনিস্ট পার্টি। এমনকি কালাপানি, লিপুলেখ ও লিমপিয়াধুরা অঞ্চলকে নিজেদের মানচিত্রেও অন্তর্ভুক্ত করেছে দেশটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর খবর অনুসারে শিগগিরই ম্যাপ প্রকাশ করবে নেপাল।
দ্য ডিপ্লোম্যাট ও কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গিয়াওয়ালি নতুন মানচিত্রের কথা ঘোষণা করে বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় শিগগিরই জনসমক্ষে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করবে। নতুন মানচিত্র প্রকাশের পর প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছে নেপাল।
সময় বাঁচাতে উত্তরাখন্ড থেকে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার লম্বা সড়ক তৈরি করছে ভারত। উদ্দেশ্য, পূণ্যার্থীদের মানস সরোবর পর্যন্ত তীর্থযাত্রা সুগম করা। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি নেপাল। সড়কটি নিজ দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কাঠমান্ডু।
এই অবস্থায় নেপালের জমিতে সড়ক তৈরি করে ভারত দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি লঙ্ঘন করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গিয়াওয়ালি।
কিন্তু নেপালের দাবি নাকচ করে দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে উত্তরাখন্ড থেকে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার লম্বা সড়কটি ভারতের জমিতে তৈরি।
ভারত-নেপাল দুদেশই কালাপানি তাদের বলে দাবি করে। নিজ দেশের ধারচুলা জেলার আওতায় কালাপানি অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি নেপালের। অন্যদিকে ভারত দাবি করে কালাপানি উত্তরাখন্ডের পিথরগড় জেলার অন্তর্গত।
১৮১৬ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও নেপালের রাজার মধ্যে সই হয় সুগাউলি চুক্তি। সেখানে বলা আছে, মহাকালী নদীর পূর্বের অংশ নেপালের। ১৯৮৮ সালের বৈঠকেও ভারত স্থায়ী সীমান্ত মেনে চলতে রাজি হয়েছিল।

